আল্লাহর ডাকে সাড়া

সেলফ্ কোয়ারেন্টাইনের ডায়েরি

আপনার কি ঘুড়ি চেনা আছে?
বাংলাদেশের ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটারের
মধ্যে এমন কোনো মানুষ নাই যার ঘুড়ি চেনা নাই।
কোনো ব্যক্তি ঘুড়ি আকাশে উড়াতে পছন্দ করে। আবার কোনো ব্যক্তি উড়ানো দেখতেও পছন্দ করে।
আর ঘুড়ি আকাশে যখন উড়ানো হয়, ঘুড়ির মালিক ঘুড়ির সুতার নাটা ধরে রাখে আর হাসতে থাকে। তাই না?
আর বলে ঘুড়ি যত উপরে উঠবা ওঠো আমি আবার তোমারে সুতা ধরে টান দিয়ে আমার কাছে নিয়ে আসবো।
ঘুড়ি যতো উপরে ওঠে মালিক ততো হাসতে থাকে। আবার নির্দিষ্ট সময় পর ঘুড়ির সুতা ধরে টান দিয়ে নামিয়ে নিয়ে আসে।

সুনামধন্য কয়েকখানা তাফসির স্ট্যাডি করে জানতে পারলাম।
বাস্তবে আপনার আমার জীবনটাও এমন
মহান রাজাধিরাজ আল্লাহ মায়ের গর্ভে এক ফোটা নাপাক পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন।

১. প্রথম ৪০ দিন মায়ের পেটে নাপাক পানি জমা থাকে।
২.  তারপর ৪০ দিন রক্তপিণ্ড আকারে থাকে।
৩. তারপর ৪০ দিন পর্যন্ত মাংসপিণ্ড আকারে থাকে।

তার পর আল্লাহ তাআলা একজন ফেরেশতা কে পাঠিয়ে দেন চারটি জিনিস লিখে দেয়ার জন্য।

১. রিজিক্
২. আমল
৩. হায়াত
৪. ভাগ্য

এভাবে আমাদের জীবন নামক ঘুড়িটা ধীরে ধীরে উড়া শুরু করে। আর যখন ১২ বছর বয়স হয় তখন আমাদের জন্য ২ টি পথ থাকে।

১. সোজা পথ।
২. ডাল- পালা যুক্ত পথ।

এবার আল্লাহ তাআলা তার জমীন দেখিয়ে ছেড়ে দেন। মানুষকে পৃথিবীতে বিচরণ করার জন্য।
কিন্তু মানুষ নামক ঘুড়ির সুতা মহান রবের কাছে থাকে।
তারপরও মানুষ মনে করে আমার আবার ধরে কে!
আমিই তো সবচেয়ে শক্তিশালী ও টাকা ওয়ালা লোক।
আল্লাহ তাআলা তখন বলেন তোমারে উড়তে দিয়েছি উড়ো।
আসুন আমরা কুরআন সুন্নাহের ভাষ্য জানার চেষ্টা করি…….

(أَیۡنَمَا تَكُونُوا۟ یُدۡرِككُّمُ ٱلۡمَوۡتُ وَلَوۡ كُنتُمۡ فِی بُرُوجࣲ مُّشَیَّدَةࣲۗ وَإِن تُصِبۡهُمۡ حَسَنَةࣱ یَقُولُوا۟ هَـٰذِهِۦ مِنۡ عِندِ ٱللَّهِۖ وَإِن تُصِبۡهُمۡ سَیِّئَةࣱ یَقُولُوا۟ هَـٰذِهِۦ مِنۡ عِندِكَۚ قُلۡ كُلࣱّ مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِۖ فَمَالِ هَـٰۤؤُلَاۤءِ ٱلۡقَوۡمِ لَا یَكَادُونَ یَفۡقَهُونَ حَدِیثࣰا)
[Surat An-Nisa’ 78]

তোমরা যেখানেই থাকো না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই। এমন কি তোমরা কোনো মজবুত প্রাসাদে অবস্থান করলেও।
যদি তাদের কোনো কল্যাণ হয় তাহলে তারা বলে,এতো আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে।
আর কোনো ক্ষতি হলে বলে, এতো তোমাদের বদৌলতে হয়েছে।
বলে দাও সবকিছুই হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে।
লোকেদের কী হয়েছে কোনো কথাই তারা বোঝে না।

হাদীস শরীফ থেকে আমরা জানতে পারি,
হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো- হে আল্লাহর রাসুল! সবচাইতে বুদ্ধিমান লোক কে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি অধিকহারে মৃত্যুকে স্মরণ করে এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যস্ত থাকে। (ইবনে মাজাহ)

কুরআন ও হাদীসের দলীল থেকে আমরা জানতে পারলাম মানুষ নামক ঘুড়ির সুতা আল্লাহ তাআলার কাছে। আর আল্লাহ তাআলা হযরত আযরাঈল আঃ কে শুধু আদেশ করেন।
আর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জান কবজ হয়ে যায়।
তাই আমি আমার ভাষায় বলেছি,…………….

শোনো হে মানুষ ভাই
আমাদের আর রেহাই নাই।
মৃত্যুর ভয়ে যেথায় পালাও
মৃত্যু তোমার নিবে ঘিরি।
যদিও সুদূর আকাশ পানে
পালাও হেথায় লাগিয়ে সিঁড়ি।

আসুন আমরা বিশ্ব সংকটময় সময়ে
মহামারী করোনার ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে ধন্যা দিই।
হে আল্লাহ আমাদের করোনার ছোবল থেকে এবারের মতো মাফ করো। আমরা বড়ই অসহায়।
আল্লাহ আমাদের সবাই কে তোমার রহমত দিয়ে সুস্থতা দান কর আমিন।

সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন পরবর্তী কলামে চোখ রাখুন।

ক্বারী মাওঃ এম. নায়েব আলী
সহকারী শিক্ষক
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ, নারায়ণগঞ্জ।



মন্তব্য চালু নেই