মেইন ম্যেনু

স্ট্রোক থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পদ্ধতি

হঠাৎ হঠাৎ হচ্ছে স্ট্রোক। ক্রমে এর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। বয়স্কদের সঙ্গে সঙ্গে যুবকরাও স্ট্রোকের শিকার হচ্ছে। কেন হচ্ছে এরকম? কোলেস্টেরল জমতে জমতে সুরু হয়ে যাচ্ছে মস্তিকের ধমনী। যার ফলে হচ্ছে স্ট্রোক। এরকম স্ট্রোককে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ইস্কিমিক স্ট্রোক’৷ এই ধরনের স্ট্রোকই বেশি দেখা যায়৷

নিউরোলজিস্টরা এ রকম রোগীর চিকিৎসায় থ্রম্বোলাইটিক থেরাপির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন৷ অ্যাটাক হওয়ার ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এই চিকিৎসা শুরু করা গেলে সফলতা পাওয়া যায়।

থ্রম্বোলাইটিক থেরাপি কি?

ইস্কিমিক স্ট্রোক হওয়ার পর চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে টিস্যু প্লাসমিনোজেন অ্যাক্টিভেটর জাতীয় ওষুধ শিরা বা অনেক ক্ষেত্রে ধমনীর মধ্যে দিতে হয়। এতে মস্তিষ্কের রক্তনালীতে জমাকৃত রক্ত গলে গিয়ে রোগীর অবস্থা ভাল হতে সাহায্য করে৷ থ্রম্বাস বা জমাট রক্ত গলায় বলে এর নাম ‘থ্রম্বোলাইটিক থেরাপি’৷

এ থেরাপিতে কাজ না হলে সরু ক্যাথিটারের সাহায্যে ওই জমাট রক্ত টেনে বার করে নেওয়া হয়, যাকে বলে ‘মেকানিকাল থ্রম্বেকটমি’৷ দু’-এক ঘণ্টার মধ্যে এই চিকিৎসা শুরু করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেশ ভাল ফল পাওয়া যায়৷ ৬ ঘণ্টার মধ্যে এলেও কাজ হবে৷ তারপর এলে আগের মতো ফল না হলেও চেষ্টা করা হয় যাতে ক্ষতির মাত্রা আর না বাড়ে৷

আসলে স্ট্রোক হলে এক সেকেন্ডে মস্তিষ্কের কয়েক হাজার স্নায়ু ও কোষের ক্ষতি হয়৷ এক মিনিটে নষ্ট হয় প্রায় বিশ লাখ কোষ৷ একবার নষ্ট হয়ে গেলে তাদের আর ঠিক করা যায় না৷ সমস্যা হচ্ছে মনে হলেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু করা উচিত৷ কারণ-

* স্ট্রোক হয়েছে তা বুঝতে না পারা, কোন চিকিৎসকের কাছে নেয়া হবে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে, হাসপাতালের দূরত্ব ইত্যাদি মিলিয়ে রোগীকে যখন চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়, ততক্ষণে ‘উইন্ডো পিরিয়ড’ অর্থাৎ যতটুকু সময়ের মধ্যে এই চিকিৎসা দিলে কাজ হতে পারে তা শেষ হয়ে যায়৷ ফলে চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না।

* দ্বিতীয় বাধা আসে খরচের দিক থেকে৷ মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে অল্প সময়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা জোগার করা সম্ভব হয় না।

* তৃতীয় সমস্যা হচ্ছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব৷ ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ওষুধে কিছু সমস্যা হয়৷ কখনও কখনও চিকিৎসকরা এই ঝুঁকি নিতে চান না৷ আবার কেউ কেউ ওই প্রাণের ঝুঁকিকেই বড় করে দেখেন। নিজের রোগীকে ওই ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে নিয়ে আশঙ্কিত হতে পরেন। ফলে চিকিৎসায় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়।

আনুষঙ্গিক চিকিৎসা

ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিটে রেখে ওষুধপত্র দিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়৷ কিছু ক্ষেত্রে অপারেশন করতে হতে পারে। বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় কোন পরিস্থিতি কী ভাবে সামলাতে হবে তা ভালো করেই জানেন নিউরোলজিস্টরা৷ এছাড়া সময় মতো ওষুধ দেওয়া, ঠিক মতো খাওয়ানো, রক্তচাপ ঠিক রাখা, বেডসোর যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা, চ্যানেল–ক্যাথিটার থেকে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে কি না সেদিকে খেয়াল রাখা ইত্যাদির দিকে কড়া নজর তো রাখতেই হবে।

স্ট্রোক রিহ্যাবিলিটেশন

চিকিৎসা শেষে হাসপাতালেই শুরু হয় রিহ্যাবিলিটেশান৷ অর্থাৎ মানুষটিকে আগের কর্মময় স্বাভাবিক ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালোনো হয়৷

* অভিজ্ঞ ফিজিওর তত্ত্বাবধানে কিছুক্ষণ পর পর হাত-পা বিভিন্ন দিকে চালনা করা হয়, পাশ ফেরানো হয়৷ যাকে বলে প্যাসিভ ফিজিওথেরাপি৷

* রোগী একটু সুস্থ হওয়ার পর শুরু হয় অ্যাকটিভ ফিজিওথেরাপি৷ তাকে বসানো ও হাঁটানোর চেষ্টা করা হয়৷ সারাদিনে যত বার সম্ভব৷ রিস্ট ড্রপ, ফুট ড্রপ বা কোনও রকম বিকৃতি এড়াতে রাতে স্প্লিন্ট পরিয়ে রাখতে হতে পারে৷

* স্ট্রোকের পর শরীর কতটা সচল হবে তা নির্ভর করে ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ু নিজে থেকে কতটা ঠিক হবে তার উপর৷ ফিজিওথেরাপির উদ্দেশ্য হচ্ছে যত দিন না স্নায়ু কর্মক্ষম হচ্ছে ততদিন ব্যায়ামের সাহায্যে পেশি ও সন্ধিকে সচল রাখা৷

* প্রথম দু’-এক মাস দ্রুত কাজ হয়৷ ৬ মাস পর্যন্ত গোল্ডেন টাইম৷ এক থেকে দেড় বছর পর আর ফিজিওথেরাপি চালিয়ে লাভ হয় না৷

* হতাশা-অবসাদ কাটাতে মনোবিদের সঙ্গে কথা বলে জেনে নিতে হবে রোগীকে কীভাবে সামলাবেন৷ অনেক সময় অতিরিক্ত আগলে রাখলেও ক্ষতি হয়৷ তাই রোগের ধরন অনুযায়ী ঠিক করে নিতে হবে।



মন্তব্য চালু নেই