স্বাস্থ্যের গাড়িচালকের শত কোটি টাকার সম্পদ: র‌্যাব

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আব্দুল মালেককে অস্ত্রসহ ও জাল টাকাসহ গ্রেপ্তারের পর তার শত কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

মালেককে (৬৩) রোববার ভোরে ঢাকার তুরাগ থানা এলাকার কামারপাড়া বামনটেকে তার ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পদত্যাগী মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবুল কালাম আজাদের গাড়ি চালাতেন তিনি।

করোনাভাইরাস মহামারীকালে স্বাস্থ্য খাতের নানা দুর্নীতি প্রকাশ পাওয়ার পর সমালোচনার মুখে ডা. আজাদ পদত্যাগ করলে অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে সংযুক্ত রয়েছেন মালেক।

র‌্যাবের মিডিয়া উইং পরিচালক আশিক বিল্লাহ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, মালেক একজন সরকারি কর্মচারী হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সরকারের ‘প্রয়োজনীয় অনুমতি’ নিয়েই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার কাছ থেকে একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, দেড় লাখ জাল টাকা, একটি ল্যাপটপ উদ্ধারের কথাও জানান তিনি।

মালেক অবৈধ অস্ত্র ও জাল টাকার কারবারে জড়িত- এমন তথ্য পেয়ে তার উপর নজরদারি চলছিল বলে র‌্যাব জানিয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তার সম্পদের খোঁজ পায় তারা।

আশিক বিল্লাহ বলেন, “তার আয়ের সাথে সম্পদের পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। প্রাথমিকভাবে তার শত কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে।”

অষ্টম শ্রেণি পাস মালেক ১৯৮২ সালে সাভার স্বাস্থ্য প্রকল্পে গাড়িচালক হিসাবে যোগ দেন। ১৯৮৬ সালে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগ দেওয়ার পর বিভিন্ন কর্মকর্তার গাড়ি চালাতেন।

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, তুরাগের দক্ষিণ কামারপাড়ায় ২টি সাততলা ভবন, একই এলাকায় একটি বিশাল ডেইরি ফার্ম, ধানমন্ডির হাতিরপুলে সাড়ে ৪ কাঠা জমিতে একটি নির্মাণাধীন ১০তলা ভবন ছাড়াও কলাবাগানসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে মালেকের। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থও জমা আছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা আশিক বিল্লাহ বলেন, তার সম্পদের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তদন্ত করে দেখবে বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা ছাড়াও নানাভাবে ভীতিপ্রদর্শন করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন মালেক।

মালেক দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গাড়িচালক হওয়ায় ‘বদলি বাণিজ্য’ও করতেন বলে র‌্যাবের সন্দেহ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নানা দুর্নীতি চিত্র বেরিয়ে আসার মধ্যে সম্প্রতি অধিদপ্তরের অফিস সহকরী আবজাল হোসেনেরও বিপুল সম্পদের তথ্য পায় দুদক। তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে মালেক অবৈধ সম্পদ গড়েছেন, সেই বিষয়ে কিছু তথ্য পেয়েছেন বলে র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

“তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,” বলেন আশিক বিল্লাহ।



মন্তব্য চালু নেই