শিরোনাম:

হাবাসপুরে জঙ্গি আস্তানায় দ্বিতীয় দফায় অপারেশন শুরু

রাজশাহী: জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার হাবাসপুরে জঙ্গি আস্তানায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু করেছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। শুক্রবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফের এ অভিযান শুরু হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ মে) ভোর থেকে ওই বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখে পুলিশ। সকাল পৌনে ৮টার দিকে ওই আস্তানা থেকে একটি আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলিতে ৫ জঙ্গিসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

ওই আস্তানা থেকে সুমাইয়া নামের এক নারী আত্মসমর্পণ করেছেন। এসময় ওই নারীর সঙ্গে থাকা সুরাইয়া (দেড় মাস) ও জোবায়ের (৭) নামের দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়।

এঘটনায় এসআই উৎপল, কনস্টেবল তাজুলসহ পুলিশের চার সদস্যও আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সকাল পৌনে ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে জঙ্গি আস্তানায় পানি ছিটাচ্ছিল। এ সময় ওই আস্তানা থেকে দুই শিশুসহ আটজন বের হন। বের হয়েই তারা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপর বোমা ও বর্শা নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে জঙ্গিরা আত্মঘাতি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে পাঁচ জঙ্গি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আব্দুল মতিন আহত হয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিবজুর আলম মুন্সি বলেন, ভোর থেকেই ওই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছিলো। সকাল পৌনে ৮টার দিকে ওই বাড়ির ভেতর থেকে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। কিছুক্ষণ পর সেখানে এক নারীসহ চারজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এদের মধ্যে গৃহকর্তা সাজ্জাদ আলী থাকতে পারেন। অভিযানে সেখান থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরও জানান, নিহত আবদুল মতিনের বাড়ি গোদাগাড়ীর মাটিকাটা ইউনিয়নের মাটিকাটা এলাকায়। তার শরীরে বোমা ও দেশীয় অস্ত্রের মারাত্মক আঘাত রয়েছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. একরামুল হক জানান, জঙ্গিরা মারা যান আস্তানায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত জঙ্গিদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে এদের মধ্যে গৃহকর্তা সাজ্জাদ আলী থাকতে পারেন। অভিযানে তার সাত বছরের ছেলে ও দেড় মাসের কন্যা শিশুকে উদ্ধার করা হয়। আস্তানার ভেতরে একজন ‘সুইসাইড ভেস্ট’ (আত্মঘাতী বন্ধনী) পরে অবস্থান করছেন।

এদিকে, এ ঘটনায় জঙ্গি আস্তানার আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ নেওয়াজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।