৬ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে করোনা রোগীকে ধরল পুলিশ

দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পুলিশের অভিযানের পর উদ্ধার হওয়া ঢাকাফেরত করোনাভাইরাস আক্রান্ত গার্মেন্টসকর্মীকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার মধ্যরাতে ওই রোগীকে স্বাস্থ্যবিভাগের বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওই করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসা চারটি পরিবারকে লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, উপজেলার বেউলা গ্রামের গৃহবধূ ঢাকার আশুলিয়ায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করেন। সম্প্রতি করোনা রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পরে তিনি মোবাইল বন্ধ রেখে তার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে সাতক্ষীরায় নিজ গ্রাম বেউলাতে আসেন।

ওসি জানান, গতকাল ডিএমপি থেকে তাদের জানানো হয়, করোনা পজিটিভ রোগী সাতক্ষীরায় পালিয়ে গেছেন। এর পরে মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, তিনি কচুয়ার একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন। তবে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পরে জানা যায়, তিনি কচুয়ায় এক মৃত আত্মীয়ের বাড়িতে গেছেন। সেখানে গিয়ে জানা যায়, তিনি কচুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা সাঈদ ঢালীর বাড়িতে আছেন। সেখানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

ওসি আরও জানান, পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, ওই করোনা রোগী সাঈদ ঢালীর বাড়িতে এসে দুপুরে খেয়ে বিশ্রামও নিয়েছিলেন। বিশ্রামের পরে তিনি মোটরসাইকেলযোগে অন্যত্র চলে যান। এরই মধ্যে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। সবশেষে রাত সাড়ে দশটার দিকে মহাজনপুর বিলের প্রান্তসীমায় একটি নির্জন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর আলিফ রেজা জানান, রাতেই করোনা আক্রান্ত ওই নারীকে করোনার জন্য নিবেদিত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কচুয়া ও বেউলায় যেসব বাড়িতে তিনি অবস্থান করেছিলেন, এমন চারটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়েত জানান, করোনা আক্রান্ত ওই নারীর মধ্যে কোনো উপসর্গ নেই। তাছাড়া তিনি যাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাদের মধ্যে কোনো উপসর্গ না থাকলেও তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারীর শারীরিক অবস্থার ন্যূনতম পরিবর্তন বা অবনতি হয়নি বলেও জানান সিভিল সার্জন।



মন্তব্য চালু নেই