বনানীর ধর্ষণ মামলার দ্রুত চার্জশিট দিতে চায় পুলিশ


বনানীর ধর্ষণ ঘটনায় জড়িত সব আসামিই এখন পুলিশ হেফাজতে। ঘটনার দায়ও স্বীকার করেছেন আসামিরা। এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামির মধ্যে প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাই মামলার তদন্ত শেষে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিতেও খুব একটা সময় লাগার কথা নয় পুলিশের।
ধর্ষণ মামলায় অনেক স্পর্শকাতর আলামত থাকে, যা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়। সেসব বিষয় সামনে রেখেই এগোচ্ছে তদন্ত সংস্থা উইমেন অ্যান্ড ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার। মামলাকে শক্তপোক্ত করতে যা করণীয় তা-ই করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, মামলার সব আসামি পুলিশ হেফাজতে থাকায় এবং তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মামলার তদন্ত অনেকটা এগিয়ে নিয়েছে। আর তাই অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই মামলার তদন্ত শেষে চার্জশিট দেয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
আইন অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ ধারায় ধর্ষণের শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে-ধারা ৯(১): কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও তাকে দেয়া যেতে পারে।
আইনজ্ঞরা আরো বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত সব অপরাধের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য সরকার প্রতিটি জেলা সদরে একটি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নামক বিশেষ আদালত গঠন করেছে। ধর্ষণের বিচারও এই ট্রাইব্যুনালে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ধারা ২০(৩)তে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মামলাপ্রাপ্তির তারিখ হতে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
গত ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন দুই তরুণী। নানা হুমকি-ধমকির একপর্যায়ে ঘটনার ৪০ দিন পর গত ৬ মে বনানী থানায় সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন ভুক্তভোগী তরুণীদের একজন।
এরপর গত ১১ মে রাতে মামলার প্রধান অভিযুক্ত আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ এবং তিন নম্বর আসামি র্যাগনাম গ্রুপ ও পিকাসো রেস্টুরেন্টের মালিকের ছেলে সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ সদর দপ্তর। এরপর রিমান্ড শেষে গত ১৮ মে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এরপর গত ১৫ মে রাতে পুরান ঢাকার নবাবপুর রোডের ইব্রাহীম হোটেল থেকে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। একই দিন গুলশান থেকে মামলার অপর আসামি সাফাতের দেহরক্ষী রহমত ওরফে আবুল কালাম আজাদকেও গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
এরপর গত ১৭ মে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ ওরফে আবদুল হালিমকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিই এখন পুলিশ হেফাজতে। হালিম সাত দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালের রিমান্ডের শেষ দিন ছিল রোববার (২১ মে)। রিমান্ডের শেষ দিনই বিল্লাল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ নিয়ে তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন। নাঈম ওরফে হালিম ছাড়া সবাইকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এই রকম সংবাদ আরো পেতে হলে এই লেখার উপরে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন। সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে হলে এই পেইজের নীচে মন্তব্য করার জন্য ঘর পাবেন