রাজশাহীতে ডিবি পরিচয়ে একের পর এক ছিনতাই


তাদের হাতে ছিল অস্ত্র। গায়ে ছিল পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পোশাক। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ বলেই পরিচয় দিয়েছিল। এরপর ছিনিয়ে নেয় টাকা। গেল বছর রাজশাহীতে এমন কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
এতে ‘ভুয়া ডিবি পুলিশের’ আতঙ্ক পেয়ে বসে রাজশাহীবাসীকে। কিন্তু পুলিশ তাদের ধরতে পারেনি। তাই এখনও জানা যায়নি ডিবি পুলিশের পরিচয়ধারীরা ছিল কারা। তবে পুলিশ বলছে, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে পর পর কয়েকটি ছিনতাইয়ের পর বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে দুর্বৃত্তদের।
বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে বছরজুড়েই ঘটেছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। তবে বছরের শেষ ভাগে শুরু হয় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই। গত অক্টোবরে তিনদিনের ব্যবধানে একটি মোটরসাইকেলসহ ২২ লাখ ১০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পর পর একই কায়দায় এসব ছিনতাইয়ের ঘটনায় শহরজুড়ে দেখা দেয় ডিবি পুলিশ আতঙ্ক।
ওই বছরের ২ অক্টোবর দুপুরে নগরীর রানীবাজার এলাকায় ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাচ্ছিলেন ফেরদৌসি বেগম নামে এক নারী। দুই যুবক অভিনব কৌশলে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন চার লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। তদন্তে নেমে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ থেকে এক ছিনতাইকারীর ছবিও সংগ্রহ করে পুলিশ। কিন্তু ছিনতাইকারীরা এখনও অধরা।
জানতে চাইলে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমান উল্লাহ বলেন, ‘ছিনতাইকারীর ছবি সংগ্রহ করে দেশের সব থানায় পাঠালাম, পত্রিকায় ছাপালাম, ফেসবুকে দিলাম। কিন্তু সন্ধান মিলল না। মামলাটির এখনও তদন্ত চলছে। ছিনতাইকারীদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’
রানীবাজারের এই ছিনতাইয়ের ঘটনার তিন দিনের মাথায় নগরীর মাহেন্দ্রা এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ডিবি পুলিশের পোশাক পরেই ছিনিয়ে নেয়া হয় একটি জুটমিলের সাড়ে ১৭ লাখ টাকা। এর আগে তল্লাশির নামে থামানো হয়েছিল জুটমিলের ওই পিকআপ ভ্যানটি। এ ঘটনায় নগরীর মতিহার থানায় একটি মামলা হয়।
মহানগর ডিবি পুলিশের ওসি হুমায়ুন কবীর মামলাটির তদন্ত করছেন। তিনি বলেন, ‘ওই ছিনতাইয়ের পর মতিহার থানা পুলিশ সন্দেহভাজন দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু তারা স্বীকারোক্তি দেয়নি।’
মাহেন্দ্রার ওই ছিনতাইয়ের পর বগুড়ায় একই কায়দায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তিনি ধারণা করছেন, এ দুটি ছিনতাইয়ের সঙ্গে একই চক্রের সদস্যরা জড়িত।
তাই বগুড়ায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনকে মতিহার থানার মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এখন তিনি ওই ছয় আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান। এ জন্য প্রক্রিয়া চলছে।
তবে বগুড়ার আসামিদের বাইরে আর কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। তদন্ত কাজও শেষ হয়নি বলে জানান ডিবি পুলিশের ওসি হুমায়ুন কবীর।
মাহেন্দ্রার চাঞ্চল্যকর এই ছিনতাইয়ের দুই দিন আগে জেলার পবা উপজেলার কসবা এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে শরিফুল ইসলাম রাজিব নামে এক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ছিনতাইকারীদের হাতেও ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। কয়েকদিন পর একই কায়দায় নগরীর ভেড়িপাড়া মোড়ে সাদ ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় নগদ টাকা ও মুঠোফোন।
এর আগে গত জুলাইয়ে নগরীর ডাবতলা এলাকায় ডিবি পুলিশ গোদাগাড়ীর মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও গরু ব্যবসায়ী রুহুল আমিন নয়নের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় ২০ লাখ টাকা।
গত ফেব্রুয়ারিতে একই কায়দায় নগরীর দুই সতীনের মোড় এলাকায় আবদুল হালিম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় মুঠোফোন ও নগদ টাকা।
রাজশাহী মহানগর ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার আল-আমিন হোসাইন বলেন, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইগুলো করেছে। কিন্তু রাজশাহীতে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই তারা মনে করছেন, অন্য জেলা থেকে এসে ছিনতাইকারীরা এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ছিনতাইকারীদের দাপট রুখতে নগরীতে স্থায়ী চেকপোস্টের পাশাপাশি আরও অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে রাতের অভিযান। তাই কমেছে ছিনতাইয়ের ঘটনা।

এই রকম সংবাদ আরো পেতে হলে এই লেখার উপরে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন। সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে হলে এই পেইজের নীচে মন্তব্য করার জন্য ঘর পাবেন