লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আখ চাষে আব্দুল মান্নানের ভাগ্যবদল

লালমনিরহাটে আখ চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দামও পাচ্ছেন তারা। উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়েও দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় ভাগ্য বদলে কৃষকের মুখে ফুটেছে হসি। কৃষি বিভাগ বলছে,আখ চাষ সম্প্রসারণে সরকারি প্রকল্প নেওয়া হবে, পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে কৃষকদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি খরিপ মৌসুমে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলায় ৭ শত হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার হেক্টর জমি।

অন্য জেলার তুলনায় লালমনিরহাটে আখ চাষ একসময় খুবই কম ছিল। তবে গত কয়েক বছরে লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক আখ চাষে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে উঁচু জমি ও বেলে-দোয়াশ মাটি আখ চাষের জন্য উপযোগী বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আখ চাষ শুরু করেন। গত বছর তিনি ১ লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ৩ লাখ টাকার আখ বিক্রি করেন। চলতি বছরেও তার আখের বাম্পার ফলন হয়েছে এবং ভালো দামের আশায় রয়েছেন তিনি। বর্তমানে বাজারে প্রতি পিস আখ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। চিবিয়ে খাওয়ার পাশাপাশি গুড় তৈরির জন্যও এসব আখ বেশ জনপ্রিয়।

কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আখের ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় বেশি দাম পাওয়ায় আমরা খুশি।

গোতামারী এলাকার আরেক কৃষক মিজানুর হোসেন জানান, “আগে শুধু ধান করতাম। কিন্তু ধানে তেমন লাভ নেই। এখন আখ করে দেখছি খরচ কম, লাভ বেশি। তাই আগামীতে আরও বেশি জমিতে আখ চাষ করব।

স্থানীয় আখ বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন“এলাকায় এখন আখের প্রচুর চাহিদা। বাজারে তুললেই বিক্রি হয়ে যায়। প্রতি পিস ৩০-৩৫ টাকা দরে আখ বিক্রি করছি। গুড় কারখানাগুলো থেকেও চাহিদা আসছে।”

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন বলেন,আখ একটি অর্থকরী ফসল। একসময় আখ চাষ হারিয়ে যাচ্ছিল, তবে গত দুই বছর থেকে আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি উপজেলায় আখ চাষ হচ্ছে। কৃষকরা আরও বেশি করে আখ চাষে আগ্রহী হন সেজন্য প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।

কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে, দেশে বর্তমানে বছরে আখ উৎপাতি হয় মাত্র ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার টন, যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্ত কম। বাংলাদেশে আখ চাষের জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করে আখের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। আখ চাষের আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে উলম্বভাবে আখের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশে হেক্টরপ্রতি আখের গড় ফলন ৪৬ টন। আখের ফলন বৃদ্ধির যেসব প্রযুক্তি রয়েছে তার মধ্যে আগাম আখ চাষ অন্যতম।