সুনামগঞ্জে চোরাচালান বাণিজ্য জমজমাট: ১৭ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জব্দ

সুনামগঞ্জরে বিভিন্ন উপজেলা সীমান্তে আবারো জমজমাট হয়ে উঠেছে চোরাচালান বাণিজ্য। সোর্স পরিচয়ধারীরা সীমান্ত চোরাকারবারীদের নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে কোটিকোটি টাকার বিভিন্ন মালামালসহ মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র পাঁচার করছে বলে খবর পাওয়া গছে।

আর এই চোরাচালান করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা। তারপরও সীমান্ত এলাকায় জোরালো কোন অভিযানের খবর পাওয়া যায় না। তাই র‌্যাব ও সেনাবাহিনির সহযোগীতা জরুরী প্রয়োজন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গছে- প্রতিদিনের মতো আজ রবিবার (২ র্মাচ) ভোর ৬টা থেকে জেলার তাহিরপুর উপজেলার লাউড়গড় সীমান্তের জাদুকাটা নদী ও সাহিদাবাদ বিজিবি পোস্টের সামনে দিয়ে ভারত থকেে শতশত লোক ওপেন কয়লা ও পাথর পাঁচার করাসহ বিজিবি ক্যাম্পের ২শ গজ দক্ষিণ দিক থেকে জাদুকাটা নদীর তীর কেটে ২০-৩০টা পিকআপ ও মাহিন্দ্রা গাড়ি বোঝাই করে বালি পাচাঁর শুরু করে স্থানীয় চহ্নিতি প্রভাবশালী চোরাকারবারীরা।

ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই চোরাচালান বাণিজ্য ওপেন চললেও নেওয়া হয়না কোন পদক্ষেপ। অন্যদিকে সন্ধ্যার সাথে সাথে পাশের চাঁনপুর সীমান্তের রাজাই, কড়ইগড়া ও বারকেটিলার আনন্দপুর, বিজিবি পোস্টের সামনে দিয়ে শুরু হয় মদ, গাজা, ইয়াবা, অস্ত্র, ফুচকা, চিননি, জিরা, কম্বল, নাসিরউদ্দিন বিড়ি, গরু ও ঘোড়া পাঁচার।

গত ৭ দিনে এই সীমান্ত দিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার মালামাল পাঁচারের খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে- সোর্স পরিচয়ধারীরা বিজিবির নাম ভাংগিয়ে পাঁচারকৃত প্রতিবস্তা ফুচকা থেকে ১৫০ টাকা, চিনি ১শ টাকা, গরু ১হাজার টাকা, ঘোড়া ১৫শ টাকা, প্রতি খাচা বিড়ি ১হাজার টাকা, প্রতি প্যাকেট জিরা ১শ সহ অন্যান্য মালামাল থেকে চুক্তি ভিত্তিক চাঁদা উত্তোলন কর।

একই ভাবে থানা-পুলিশের নাম ভাংগিয়েও চাঁদা উত্তোলন করে সোর্স পরিচয়ধারীরা। তারপরও নেওয়া হয়না জোরালো কোন পদক্ষেপ। একই ভাবে সোর্সরা চাঁদা নিয়ে লাউড়গড় সীমান্তের সাহিদাবাদ বর্ডার বাজার ও জাদুকাটা নদী পথে নৌকা দিয়ে রাতভর ভারত থেকে কয়লা পাথরসহ ফুচকা, চিনি, মদ পাঁচার করছে। এদিকে পাশের টেকেরঘাট ও বালিয়াঘাট সীমান্তের লালঘাট, লাকমা, টেকেরঘাট উচ্চ বিদ্যালয় ও পুলিশ ফাঁড়ির পিছন দিয়েসহ নিলাদ্রী লেকপাড়, বড়ছড়া, বুরুঙ্গাছড়া ও রজনীলাইন এলাকা দিয়ে প্রতিদিন ভোর থেকে কয়লা ও মদ পাচাঁর শুরু হয়ে চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

এব্যাপারে সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক লে.কর্ণেল একেএম জাকারিয়া কাদির পিএসসি সাংবাদিকদের জানান- উর্ধতন সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বতভাবে অব্যাহত রয়েছে।