সুনামগঞ্জে ২ কোটি টাকার মালামাল জব্দ

সুনামগঞ্জে চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য খ্যাত তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তে চলছে চোরাকারবারীদের রামরাজস্ব। চোরাকারবারীদের মধ্যে একাধিক মামলার আসামীরা নিজেদেরকে আইন শৃংখলা বাহিনীর সোর্স পরিচয় দিয়ে সিন্ডিকেড তৈরি করে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ভারত কোটিকোটি টাকার বিভিন্ন মালামাল পাচাঁর করার পর করছে চাঁদাবাজি।
এরপরও তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়না। তবে বিজিবি অভিযান চালিয়ে ২ কোটি টাকার বেশি পরিমানের অবৈধ মালামাল আটক করেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে- প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার তাহিরপুর উপজেলার লাউড়গড় সীমান্তের ১২০৩এর ৩এস পিলার সংলগ্ন জাদুকাটা নদী ও সাহিদাবাদ বিজিবি পোস্টের সামনে দিয়ে ভারত থেকে শতশত লোক দিয়ে ওপেন কয়েক হাজার মেঃটন পাথর ও কয়লা পাচাঁর করাসহ রাতে জাদুকাটা নদী পথে বারকি নৌকা দিয়ে চলে মাদক, চিনি ও ফুছকাসহ বিভিন্ন মালামাল পাচাঁর।
এছাড়াও এই সীমান্তের বিজিবি ক্যাম্পের ২শ গজ দক্ষিণ দিক থেকে জাদুকাটা নদী তীর কেটে ২০-৩০টা মাহিন্দ্র লড়ি গাড়ি বোঝাই করে ওপেন বালি বিক্রি করছে এলাকার চিহ্নিত চোরাকারবারীরা। অন্যদিকে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে পাশের চাঁনপুর সীমান্তের বারেকটিলার আনন্দপুর ও বিজিবি পোস্টের সামনে দিয়ে শতশত লোক দিয়ে সোর্স পরিচয়ধারীরা ভারত থেকে অবাধে কোটি টাকার ফুছকা, চিনি, জিরা, কম্বল, বিড়ি, গরু, ঘোড়া ও মাদকদ্রব্যসহ অস্ত্র পাচাঁর করছে। আর এই পাচাঁর থেমে থেমে চলে রাতভর।
পাচাঁরকৃত অবৈধ মালামাল মোটর সাইকেল, সিএনজি ও অটোরিক্সা বোঝাই করে বাদাঘাট বাজার, কামড়াবন্দ, বারহাল ও শিমুলতলা গ্রামে নিয়ে মজুত করা হয়। একই ভাবে এই সীমান্তের কড়ইগড়া, রাজাই, গারো ঘাট, নয়া ছড়া ও রজনী লাইন এলাকা দিয়ে পাচাঁর করা হচ্ছে কসমেটিকস, সুপারী, পান, বিড়ি, মদ ও কয়লা।
এদিকে দিনে ও রাতে বিরতিহীন ভাবে দল বেঁধে কয়লা ও মাদকদ্রব্য পাচাঁর করা হচ্ছে টেকেরঘাট ও বালিয়াঘাট সীমান্তের লালঘাট, লাকমা, বুরুঙ্গাছড়া, বড়ছড়া, নিলাদ্রী লেকপাড়সহ হাইস্কুল ও পুলিশ ফাঁড়ির পিছন দিয়ে। এই দুই সীমান্তে দিয়ে কয়লা পাচাঁর করতে গিয়ে ভারত সীমান্তে তৈরি করা সোর্সদের চোরাই কয়লার গুহায় মাটি চাপা পড়ে এপর্যন্ত শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে চারাগাঁও সীমান্তের লালঘাট, বাঁশতলা, এলসি পয়েন্ট, কলাগাঁও, জঙ্গলবাড়ি ও বীরেন্দ্রনগর সীমান্তের লামাকাটা, সুন্দরবন, বাগলী ছড়া, মাঝের ছড়া, কচুয়া ছড়া এলাকা দিয়ে একাধিক মামলার আসামীরা নিজেকে আইন শৃংখলা বাহিনী সোর্স পরিচয় দিয়ে পৃথক ভাবে প্রতিদিন ভারত থেকে কোটিকোটি টাকার ফুছকা, চিনি, জিরা, কম্বল, শাড়ি-কাপড়, কসমেটিকস, গরু, কয়লা ও মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন মালামাল পাচাঁরের পর চাঁদা উত্তোলন করছে।
আর এই চোরাচালান ও চাঁদাবাজি করে এই দুই সীমান্তের অনেকেই রাতারাতি হয়েগেছে কোটিপতি। তাদের মধ্যে মাদক ও বিস্ফোরক মামলার আসামী সীমান্ত গডফাদার তোতলা আজাদের সোর্স কোটিপতি চোরাকারবারী রফ মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানোর পর চোরাকারবারী ও সোর্স বাহিনীর উৎপাত আরো বেড়ে যায়।
এমতাবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) ভোর রাতে চারাগাঁও সীমান্তের চোরাচালানের নিরাপদ রোড খ্যাত জঙ্গলবাড়ি এলাকায় বিজিবি অভিযান চালিয়ে পাচাঁরকৃত ভারতীয় শার্ট পিস ৫১২৭টি, প্যান্টের কাপড় ১৫৬ মিটার, ব্লেজারের কাপড় ১২৯৬ মিটার, পাঞ্জাবির কাপড় ২০,৪৩০ মিটার ও সানরাইজ স্ক্রিন ক্রিম ৯০০০ পিস জব্দ করেছে। যার সিজার মূল্য ২ কোটি ৯৩ লাখ হাজার ৫শত টাকা।
কিন্তু জব্দকৃত অবৈধ মালামালের মালিক ওই এলাকার একাধিক চোরাচালান মামলার আসামী ও চিহ্নিত সীমান্ত চোরাকারবারীরাসহ সোর্স পরিচয়ধারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। মালিক বিহীন অবস্থায় অবৈধ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
এব্যাপারে সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল একেএম জাকারিয়া কাদির সাংবাদিকদের জানান- উর্ধ্বতন সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযানসহ গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বতোভাবে অব্যাহত রয়েছে। আর সীমান্তের চিহ্নিত চোরাকারবারীদের আইনের আওতায় আনার হবে এবং জব্দ করা মালামাল সুনামগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

এই রকম সংবাদ আরো পেতে হলে এই লেখার উপরে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন। সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে হলে এই পেইজের নীচে মন্তব্য করার জন্য ঘর পাবেন