আমরা বাংলাদেশকে আর গডফাদারদের দেশ দেখতে চাই না: ডা. শফিকুর রহমান

মানবিক দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে আর গডফাদারদের বাংলাদেশ দেখতে চাই না, গডফাদারদের বাংলাদেশ দেখতে চাই না, মাফিয়াতন্ত্রের বাংলাদেশ দেখতে চাই না, ফ্যাসিবাদের বাংলাদেশ দেখতে চাই না।’

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে জেলা জামায়াতের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জামায়াতের আমির।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই দেশে কোনো মেজরিটি-মাইনরিটি মানি না, আমরা সবাই মিলে ইউনিটি। আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। কিসের সংখ্যালঘু আর কিসের সংখ্যাগুরু। এই দেশে যে-ই জন্ম নিয়েছে, সে-ই এ দেশের গর্বিত নাগরিক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নাগরিকদের কোনো ভাগ-বাটোয়ারা, ধর্ম কিংবা দলের দিক থেকে গড়ার পক্ষে নই। এই বোর (বিরক্তিকর) খাসলত ছিল অতীতের পতিত স্বৈরাচারের। তারা এই জাতিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে মুখোমুখি লাগিয়ে দিয়েছিল।’

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও অত্যাচারের অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যাঁরা এই দেশে মেজরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আর মাইনরিটির (সংখ্যালঘু) জিকির তুলে রেখেছিলেন, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে বুকে হাত দিয়ে বলছি, তাঁরা যাঁদের মাইনরিটি বলতেন, এই ভাইদের সম্পদ, ইজ্জত এবং তাঁদের জীবনের ওপর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সাধন করেছেন তাঁরাই।

আমি দাবি জানাব, বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত এই দেশে এ রকম যত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর অনুসন্ধান করে তার শ্বেতপত্র জনগণের সামনে প্রকাশ করা।’

ভারতকে উদ্দেশ্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। প্রতিবেশীকে অহেতুক উষ্টা দিতে চাই না। তবে প্রতিবেশীও যেন আমাদের ওপর অসম্মানজনক ও অপমানজনক কোনো কিছু চাপিয়ে না দেয়। যদি তাঁরা এমন কিছু করেন, তাহলে দেশের স্বার্থে আমরা ভূমিকা পালন করতে কারও চোখের দিকে তাকাব না। আমরা বিবেকের দিকে তাকিয়ে বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হব।’

নারীদের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘মা-বোনেরা সমাজের উন্নয়নে সব জায়গায় ইনশা আল্লাহ গর্বের সঙ্গে আপনারাও ভূমিকা রাখবেন। যে দুইটা জিনিস এখন পান না, সেই দুইটা জিনিসও আপনারা পাবেন। একটি হচ্ছে মর্যাদা আর অন্যটি নিরাপত্তা। এই মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে আপনারা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবেন।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বেকারদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষের সমর্থন পেলে এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলব, যেখানে পাস করার পর তাঁকে চাকরির অফার দেওয়া হবে। কেউ বেকার থাকবে না।’

জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমানসহ জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আবুল বাশার বসুনিয়ার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি তাসমিয়া প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মীর মোর্শেদ প্রমূখ।