সরকার ১৪শ মানুষের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: জামায়াত আমির

সরকার চৌদ্দশ মানুষের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার জনগণের সঙ্গে দেওয়া একটি কথাও রাখেনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
এদিন সকাল ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস এলাকায় এ পথসভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বায়ক আহসান।
এর আগে লং মার্চের বহর গাজীপুরের পথসভা শেষ করে টাঙ্গাইলে পৌঁছায়। টাঙ্গাইলের পথসভা শেষে লং মার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আট দফা দাবিতে এই লং মার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। যদিও এর আগে বিশাল গাড়ির বহর নিয়ে করা ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে তাদের ছয় দফা দাবি ছিল।
টাঙ্গাইলের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘চৌদ্দশ মানুষের রক্তের বিনিময়ে এই সরকার দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এই সরকার জনগণের সঙ্গে দেওয়া একটি কথাও রাখেনি।’
তিনি বলেন, ‘সরকার জনগণের রায়ের সঙ্গে অন্যায় করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষ যে গণরায় দিয়েছে, সেই রায়কে তারা অস্বীকার করেছে। তারা স্বৈরাচারের পথে হাঁটছে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘তাদের কথা ছিল, কোথাও অনির্বাচিত কাউকে বসানো হবে না। কিন্তু তারা প্রত্যেক জেলায় নিজেদের পছন্দমতো জেলা প্রশাসক বসিয়েছে।’
এদিকে লং মার্চের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাশেম কাশেমী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
এ সময় টাঙ্গাইলের এনসিপি নেতা রাসেল আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা তুষার আহমেদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলের পথসভা শেষে লং মার্চের বহর সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভায় অংশ নেবে। সবশেষ রংপুর জিলা স্কুল মাঠে লং মার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।





























