দুর্গাপূজায় বাড়লো ছুটি, বাড়লো অনুদানও

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির সঙ্গে অনুদানের পরিমাণও বাড়িয়েছে সরকার। দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের চাহিদা ছিল চার কোটি টাকা, তবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য চাওয়া দুই কোটি টাকার বিপরীতে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর একদিন অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

প্রতিবছর শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অনুদান দেওয়া হয়। এবার সেই বরাদ্দের পরিমাণ এক কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। দুর্গাপূজার জন্য ট্রাস্টের পক্ষ থেকে চার কোটি টাকা চাওয়া হলেও পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুই কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় এ খাতে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য চাহিদার চেয়ে এক কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এ বছর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। এর পরদিন ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস-আদালত খোলা থাকার কথা ছিল।

তবে ২২ অক্টোবরও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি ভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নির্বাহী আদেশে ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভা বৈঠকে উত্থাপন করা হবে।

সরকারি ছুটির দিনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সাধারণত বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট শাখা বা বিশেষ সেবা চালু থাকতে পারে। এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাও সাধারণত চালু থাকবে।

অন্যদিকে, হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। গণমাধ্যমসহ প্রয়োজনীয় কিছু প্রতিষ্ঠানেও কর্মীদের দায়িত্বে থাকতে হতে পারে।

দুর্গাপূজাকে ঘিরে টানা পাঁচ দিনের ছুটি এবং চাহিদার চেয়ে বেশি অনুদান দেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এক দিন ছুটি বাড়িয়েছেন, কিন্তু আমরা ছুটি পাচ্ছি পাঁচ দিন। এতে উৎসবটা পরিপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক হবে। আর প্রস্তাবের বেশি অনুদান দেওয়ায় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব সম্প্রদায়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। এটা খুবই ইতিবাচক।’