শিরোনাম:

খাগড়াছড়িতে পাহাড় ভূমি দখল চেষ্টায় ব্যর্থ, হামলায় আহত-১৫

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা মাটিরাঙ্গা উপজেলা ১৮৪বড়বিল মৌজার ৩নং শুকনাছড়ি খাস জংগলী পাহাড় ভূমি খেকোরা আবারও জবর-দখলে চেষ্টায় পাল্টা-পাল্টিতে ব্যর্থ হয়েছেন, এতে উত্তেজিত সেটেলার আক্রমন ভয়ে ১৬২টি লাইপ্রুু কাবার্রীপাড়ার অসহায় ত্রিপুরা পরিবার গ্রামছাড়া অবস্থায় রয়েছে। তবে এলাকার পহাড় দখলকে কেন্দ্র করে উভয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যরা এলাকার টহল জোরদার করা হয়েছে।

রোববার (৪ এপ্রিল) দুপুরের দিকে পার্বত্য খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী মাটিরাঙা উপজেলার তবলছড়ির লাইফু কার্বারী পাড়া এলাকায় এ পাহাড় (টিলা) দখলের ঘটনা ঘটে। উভয় আহতদের মধ্যে দুইজন পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে। আবু তালেব নামে একজনকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হেেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহন শেষে বাড়ি ফিরেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় পাহাড়িরা লাইফু কার্বারী পাড়া ও আশেপাশের এলাকায় নিজেদেও ভোগ দখলীয় পাহাড় জমিতে চাষাবাদ করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় ভোগ দখলকৃত জায়গা ঘটনার দিন লাইফু কার্বারী পাড়া এলাকায় ৩০/৩৫জন ভূমি খেকোরা দেশীয় দা, কোদাল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী কায়দায় কচু চাষের জন্য টিলা ভুমিতে কাজ করতে আসে সেটেলার বাংগালি। তাতে এলাকাবাসীরা সংঘবদ্ধ প্রতিরোধে তাদেরকে বাঁধা প্রদান করে। এসময় সরকারের পুন:বাসিত দেওয়া ভুয়া দোহায় দিয়ে ভবিষ্যতে জমিতে না আসারও হুমকি দেয় সেটেলার ভূমি খেকো সন্ত্রাসীরা। তাদের বাঁধা উপেক্ষা করে যার যার জমিতে কাজ করতে গেলে ভূমি খেকো উৎসৃংখল সন্ত্রাসীরা তাদেরকে মারধর করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ভূমি খেকো সন্ত্রাসীরা বাধা উপেক্ষা করে ৬০/৭০জন উত্তেজিত সেটেলারা তবলছড়ি-তাইন্দং মোড়ে জড়ো হয়ে পাহাড়িদের আতঙ্ক তৈরি করে থাকে। এসময় অনেক পাহাড়িরা নিজ কাজে গন্তব্যস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে অনেকে আক্রান্তের শিকার হতে পালিয়ে আত্মরক্ষা করে।

এ ঘটনায় তবলছড়ি ও তাইন্দং ইউনিয়নের ইসলামপুর ও শুকনাছড়ি হতে যাওয়া ভূমি খেকো ব্যক্তিরা হলেন, মো: শাহ জালাল(৫৩), শাহ জালালের স্ত্রী আয়শা বেগম(৪৬), তাঁর দুই ছেলে নয়ন মিয়া(২৪) ও নাজমুল হক(১৫), মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে জহিরুল ইসলাম(৩২) মো: আবব্দুল খালেকের ছেলে আবদুল মোতালেব(৪৫), মো: ইউসুফ আলীর ছেলে মো: সালাহ উদ্দিন(১৯), জাফর আলীর ছেলে মো: আনোয়ার হোসেন(৪২) মো: শফিক মিয়ার ছেলে মো: রফিকুল ইসলাম(৩৫), আবু তাহেরের ছেলে আব্দুল আল মামুন(১৬), সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো: তাজুল ইসলাম(৩৪) ও সুরুজ মিয়ার ছেলে মো: মনির হোসেন(৩০)।

সচেতন মহলের অশংকা ভূমি দখলকে কেন্দ্র করে যে কোন সময় আবার পাহাড়ি-সেটেলার বাংগালি মধ্যে সম্প্রীতি বিনষ্টে হওয়ার উপলব্দ্বি দেখা গেছে। সোমবার বিকেলে বাসার ফেরার পথে ৩নং আসলং পাড়া বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু শান্তিপ্রিয় ওরফে রতন ভান্তে’র উপর উত্তেজিত সেটেলারা হামলা চাললেও প্রানে রক্ষা পায়।
আসলং পাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শান্তিপ্রিয় ওরফে রতন ভান্তে’জানান, খাগড়াছড়ি পাজেপ মাটিরাংগা হয়ে ধমর্ীয় কাজ সেড়ে মোটর সাইকেল যোগে বাসায় ফেরার পথে আন্ত: প্রধান সড়কে জড়ো হওয়া সেটেলারা বাশের লাঠি মারার চেষ্টা করলেও দ্রুত গতিতে আসা মোটর সাইকেল ড্রাইভার আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় চালিয়ে আসে।

লাইপ্রুু কাবার্রী পাড়ার প্রধান কলেন্দ্র ত্রিপুরা জানান, সম্প্রদায়িক জামায়াত ইসলামি রুপ বদলে হেফাজতির আদলে লুকিয়ে থাকা পাহাড়ে শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে আবার পাহাড়িদের দখলীয় খাস জায়গাটি জবর-দখল চেষ্টা চালায় ভূমি খেকো সেটেলারা। সেটেলাররা দল বেধে গ্রামে ঢোকানো চেষ্টা করে। এতে এলাকাবাসীর প্রতিরোধে তারা বাধ্য হয়ে পিছু যান। বর্তমানে আমার পাড়ায় ১৮২ত্রিপুরা পরিবারের অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত যাপনে মিথ্যা মামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
২নং তবলছড়ি ইউপি’র ৩নং ওয়ার্ডে’র মেম্বার মো: তাজুল ইসলাম জানান, পাহাড়ে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী তৎপরতার অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বাঙ্গালী কৃষকদের উপর হামলা চালিয়েছে প্রসিত বিকাশ সমর্থিত ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফের স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় ১৩ বাঙালী কৃষক আহত হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাটিরাঙ্গার তাইন্দং-তবলছড়িতে স্থানীয় বাঙ্গালীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় আহত মো: শাহ জালাল বলেন, ঘটনার দিন নিজের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে প্রতিদিনের মতো নিজের জমিতে কাজ করতে গেলে ইউপিডিএফের ৩০/৩৫জন স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী আমাদেরকে কাজ করতে বাঁধা প্রদান করে। এক পর্যায়ে তারা আমাদের উপর হামলা করে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি বাঙালীদের ভূমি আর জীবন জীবিকা রক্ষায় বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের দাবী জানান।

এদিকে ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাঙালী কৃষকদের শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছে মাটিরাঙ্গার যামিনীপাড়া জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: রফিকুল ইসলাম, মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলী, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম হুমায়ুন মোরশেদ খান, তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল কাদের ও তাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: হুমায়ুন কবীর প্রমুখ।

এ ঘটনাকে দু:খজনক উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মুহাম্মদ আলী বলেন, এ ঘটনাকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

এদিকে রোববার (৪ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাংগা উপজেলাধীন তবলছড়ি ইউনিয়েনের লাইফু কার্বারী পাড়া ও তাইন্দং ইউনিয়নের পংবাড়ী পাড়া নামক এলাকায় উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবিতে এবং জোর করে জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে ব্রাশফায়ার করে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সন্ত্রাসীদের এ কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াদুদ ভূইয়া।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন যে, জঙ্গলে ও জমিতে কাজ করতে যাওয়া ২০থেকে ২৫জন নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালি কৃষক, কচু চাষীকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। গুলিবিদ্ধ মনির হোসেনসহ গুরুতর আহত ৫(পাঁচ) জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এতে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ও ত্রাসের সৃষ্টি হয়। এমন ন্যক্কারজনক হামলার দীর্ঘ সময় পরও প্রশাসন বা নিরাপত্তা বাহিনীর কোন স্তরের লোকজনই ঘটনাস্থলে যায়নি এবং পরিস্থিতি মোকাবেলা করেনি। আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি বলে স্থানীয়দের থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়। বর্তমানে ঐ এলাকার পরিস্থিতি থমথমে। যার ফলে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চুক্তি নামক “অসম” চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে দিনদিন ক্রমাগতভাবে আইনশৃঙ্খলা চরম অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। জনমনে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা বেড়েই চলেছে। চুক্তির পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধুমাত্র ১টি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ছিল। কিন্তু চুক্তির পর আজ ৪টি সশস্ত্র সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে এবং এই ৪টি সংগঠনই প্রতিযোগীতামূলকভাবে পাহাড়ে ফ্রি স্টাইলে সশস্ত্র সন্ত্রাস চালিয়ে হত্যা, নির্যাতন, চাঁদাবাজী, গুম ও অপহরণ চালিয়ে মুক্তিপনের মতো কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। যা দেখার কেউ নেই। আজকের হামলার ঘটনাটিও তারই অংশ বিশেষ।

ওয়াদুদ ভূইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাহাড়ে এমন অবৈধ অস্ত্রের ন্যাক্কারজনক ঘটনা আর কতকাল চলবে? কতকাল পাহাড়ের মানুষ এমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে? পাহাড়ে নিরীহ, নিরস্ত্র, অসহায় জনগণের উপর আর কত নির্যাতন নিপিড়ন চলবে? প্রশাসন সরকারের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত অভিযোগ করে এই সাবেক এমপি বলেন, দায়হীন প্রশাসনের নতজানু নীতির কারনের সাধারণ জনগণের উপর হামলার ঘটনা একেরপর এক ঘটছে। এই ব্যার্থতার দায় সরকারের।
ওয়াদুদ ভূইয়া আরও বলেন, আমি মনে করি চুক্তি বাস্তবায়নের নামে সেনা ক্যাম্পগুলো প্রত্যাহারের ফলেই এমন অপতৎপরতা ক্রমান্নয়ে বেড়েই চলেছে। তাই আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও জনমনে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রত্যাহারকৃত সেনাবাহিনীর ক্যাম্পগুলো দ্রুত পুনঃস্থাপন এবং সেনা টহল, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোড়দারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও বাহিনীসহ সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।



মন্তব্য চালু নেই