শিরোনাম:

খাগড়াছড়িতে বেগম রোকেয়া দিবসে আলোচনা সভা, জয়িতা সংবর্ধনা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে যথাযথ সাস্থ্যববিধি অনুসনরপূর্বক নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মরণে জেলার মাটিরাঙ্গায় ও মানিকছড়ি উপজেলাতে আলোচনা সভা, জয়িতা সংবর্ধনায় বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা হয়েছে।

বুধবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১০ঘটিকার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জয়িতাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কিশোর কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের মাটিরাঙ্গা উপজেলা সুপারভাইজার মো: ইউনুস আলীর সঞ্চালনায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহি অফিসার তৃলা দেব’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো: ওবায়দুল হক।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান হাসিনা বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান ডালিম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ আশ্রাফ উদ্দিন,উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা বাদশাহ্ ফয়সাল,বর্নাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রমুখ বক্তব্য পেশ করেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নারী সমাজকে দেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের বিচক্ষণ, গতিশীল ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপের কারণে রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, আইন প্রণয়ন, প্রশাসন, অর্থনীতি, সাংবাদিকতা, শিল্প-সংস্কৃতি ও খেলাধুলাসহ পেশাভিত্তিক সকল ক্ষেত্রে নারীদের আজ গর্বিত পদচারণা।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহি অফিসার তৃলা দেব বলেন, বেগম রোকেয়ার আদর্শ, সাহস, কর্মময় জীবন নারী সমাজের এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস। তাছাড়া নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব ই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। একই সময়ে,বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করা ৩জন শ্রেষ্ঠ জয়িতাকে ৩টি ক্যাটাগরিতে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন করা গোমতি ইউনিয়নের মহাজন পাড়ার হেমবালা ত্রিপুরা,সফল জননী নারী হিসেবে আমতলী ইউনিয়নের রামশিড়ার ফিরোজা বেগম,নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে শুরু করা আমতলী কামিনী পাড়ার স্বাধীনলতা ত্রিপুরাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী মো: মনির হোসেন,উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা রুবাইয়াত তানিম,আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল গনি, তাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: হুমায়ুন কবিরসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে “কমলা রঙ্গের বিশ্বে নারী বাধার পথ দেবেই পাড়ি”-এই প্রতিপাদ্যে মানিকছড়িতে বেগম রোকেয়া দিবস ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-২০২০ এবং জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ কার্যক্রমের আওতায় আলোচনা সভা ও জয়িতা সংবর্ধনা অনুষ্টিত হয়েছে। বুধবার(৯ই ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর’র আয়োজনে ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আলোচনা সভা ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) রিফাত আসমা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মো: জয়নাল আবেদীন। এ সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো: কামরুল আলম, উপজেলা দূপ্রক সভাপতি ও তিনটহরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আতিউল ইসলাম, এস.আই মো: আক্কাস আলী প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, বেগম রোকেয়া ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে নারীরা আজ অনেক এগিয়ে গেছে। সমাজ কিংবা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাদের অবস্থান সৃষ্টি করে নিয়েছে। নেতৃত্ব দিচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে। দেশকে এগিয়ে নিতে রাখছেন অসামান্য অবদান এখনও যারা সমাজে বিভিন্নভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের স্বাীকার হচ্ছেন তাদের বেগম রোকেয়ার জীবনকে অনুসরণ করা সামনের দিকে এগিয়ে চলারও আহবান জানান বক্তারা।

পরে “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ” শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী ক্যাটগরীতে উপজেলা পর্যায়ে মনি আক্তার’কে ও সফল জননী নারী ক্যাটাগরীতে উপজেলা পর্যায়ে খোশনেয়াজ রুনা’কে শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা প্রদান করেন অতিথিরা।

উল্লেখ্য উনবিংশ শতাব্দীর খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। ১৮৮০সালের ৯ই ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ আর ১৯৩২সালের ৯ই ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন বেগম রোকেয়া। এ জন্য এই দিনটিকে রোকেয়া দিবস হিসেবে পালন করা হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বেগম রোকেয়া দিবস পালন এবং বেগম রোকেয়া পদক-২০১৯ প্রদান করা হয়েছে।



মন্তব্য চালু নেই