শিরোনাম:

পঞ্চগড়ে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের মালপত্র বিক্রির অভিযোগ

পঞ্চগড় জেলাধীন তেঁতুলিয়া উপজেলার ২৪ নম্বর নাওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কর্তৃপক্ষ বিক্রীত মালামাল জব্দ করেছে।

জানা গেছে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গোপনে বিদ্যালয়ের পুরনো মালামাল বিক্রি করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন। গত সোমবার (১ মার্চ ২০২১) দুপুরে ভাঙারি ক্রেতা হারুনকে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে পুরনো মালামাল বেঞ্চ-এর এ্যাঙ্গেল ও নতুন-পুরনো বই-খাতা ইত্যাদি বের করে বিক্রি করেন। অত:পর বিদ্যালয়ের সামগ্রী এলাকাবাসি নিয়ে যেতে দেখে অত্র বিদ্যালয়ের কমিটি’র সহ-সভাপতি আবিরুল ইসলাম হাবুকে খবর দেন।

খবর পেয়ে আবিরুল ইসলাম হাবু, স্থানীয়দের মধ্যে দোকানদার আব্দুল হামিদ, মাংস ব্যবসায়ী মুসলিম উদ্দিন, নুর ইসলামসহ আরোও অনেকে তাহা জব্দ করেন। পরে অত্র বিদ্যালয়ের কমিটি’র সভাপতি আনোয়ার হোসেন উপজেলা শিক্ষা অফিসে খবর দেয়। এতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন না করায় অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন গত ৩ মার্চ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মুসলিম উদ্দিন, আব্দুল হামিদ, আবিরুল ইসলাম হাবু, তানজিদ ও নুর ইসলাম জানান- অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দুপুরের দিকে ভাঙারি ক্রেতা হারুনের নিকট প্রায় ১০০ কেজির বেশি পুরনো বেঞ্চ-এর এ্যাঙ্গেল এবং নতুন-পুরনো বই-খাতা বিক্রি করেন। সভাপতিকে অনুপস্থিত দেখতে পাওয়ায় তাহারা সন্দেহ মনেকরে বিক্রি যাওয়া মালামালের ভ্যানটিকে আটকিয়ে বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়ে উক্ত মালামাল জব্দ করেন।

এব্যাপারে বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সহ-সভাপতি আবিরুল ইসলাম হাবু জানান, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও কমিটিকে মালপত্র বিক্রির বিষয়ে কোন অবগত করেননি। সরকারি সম্পদ চুরির উদ্দেশ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই উক্ত মালামাল বিক্রি করেন।

বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আরোও জানান, ভারপ্রাপ্ত এই প্রধান শিক্ষক যথারিতী ক্লাস পরিচালনা না করা, বিদ্যালয় ফাঁকি দিয়ে বিদ্যালয়ের অপ্রয়োজনীয় কাজে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করা এবং তার নিজ স্বাধীন মোতাবেক অসময়ে বিদ্যালয়ে আগমন করা এহেন যাচ্ছেতাই আচরণে এলাকাবাসি ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে বার বার মৌখিক অভিযোগ করেন। এতে ব্যবস্থাপনা কমিটি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে তার আচরন পরিবর্তন ও শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বারংবার অনুরোধ করেন। এতে প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার আইন অমান্য করাসহ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অবমাননা করায় গত ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে সভাপতি ও সহ-সভাপতি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু সেই লিখিত অভিযোগের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি জানানো হয়।

তবে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন বলেন, মালামাল বিক্রির অভিযোগ সত্য নয়। তাঁকে উপজেলা থেকে শিশুদের বিনোদন মূলক শিক্ষার জন্য একটি কক্ষ পরিষ্কার করার কথা বলেন, তাই সে একটি কক্ষ পরিষ্কার করেন। কক্ষ পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি ৯’শ টাকার পরিত্যাক্ত কাগজ বিক্রি করার কথা জানিয়েছেন।

অপরদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কিছু পরিত্যক্ত বই-খাতা বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন। তবে এ্যাঙ্গেল বিক্রি করার বিষয়ে তিনি বলেননি।



মন্তব্য চালু নেই