শিরোনাম:

বঙ্গমাতার ৯২ তম জন্মদিনে যাত্রা শুরু নারী উদ্যোক্তা সংগঠন ফেমনাসের

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ফজিলাতুন্নেছা মুজিব নারী উদ্যোক্তা সংগঠন ফেমনাসের আয়োজনে বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মদিন ও সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।

সোমবার (৮ আগস্ট) ঢাকার আগারগাঁওয়ে একটি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীনতার স্বপ্ন সারথী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে “ অনুপ্রেরনায় তুমি” শীর্ষক এক আলোচনা। এবং নারী উদ্যোক্তা সন্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব নারী উদ্যোক্তা সংগঠন, ফেমনাস।

এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন ঘোষনা করা হয় নারী উদ্দোক্তা সংগঠন ফেমনাসের।

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব হোসনে আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, এসএমই ফাইন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব রীনা পারভীন এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার ফারজানা খান।

এছাড়াও সন্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উইমেন ইন ডিজিটালের সিইও আছিয়া নীলা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফোরাম এসইপি এর সভাপতি কাজী ইমরান ,ই-ক্যাবের সহ প্রতিষ্ঠাতা মীর শাহেদ আলী, ই-ক্যাবের ইনভেষ্ট স্যান্ডিং কমিটির চেয়াম্যান ফারহা মাহমুদ তৃনা। ইপল্লীর সিইও জুনায়েদ আহমেদ, আইডিওলাইজারের সিইও ডায়না জামান, এবং সেলিব্রেটি রন্ধনশিল্পী এবং মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব আফরোজা নাজনীন সুমি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফেমনাসে পক্ষ হতে বঙ্গমাতা ৯২ তম জন্মদিন উদযাপন কমিটির আহবায়ক এবং টেকওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের প্রকাশক সম্পাদক নাজনীন নাহার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মফিজুর রহমান বলেন, বঙ্গমাতা আমাদের জন্য অনুপ্রেরনা তার অবদানকে শ্রদ্বা জানিয়ে ফেমনাসের এই যাত্রা আশাব্যাঞ্জক। কারন আমাদের নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যেতে হলে দক্ষতা এবং সরকারী ভাবে পলিসি গত উন্নয়নের পাশাপাশি অনুপ্রেরনারও প্রয়োজন আছে। আমাদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের যদি সঠিকভাবে গাইড করা যায় তাহলে দেশের উন্নয়নে তারা ইতিবাচক ভুমিকা পালন করবে। তাই তাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য এমন একটা প্লাটফর্ম দরকার। যেখানে তারা পলিসি সার্পোটসহ একটি পরিপূর্ণ গাইড লাইন পাবে। আমরা আশা করবো নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে ফেমনাস যেন বঙ্গমাতার নামের মর্যাদা রাখবে এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে তেমনি একটা নেটওয়ার্কিং প্লাটফর্ম গড়ে তুলবে। এই কার্যক্রমে ফেমনাসের সাথে কাজ করবে এসএসই ফাউন্ডেশন।
ফেমনাসের সদস্য ও নারী উদ্দোক্তাবৃন্দের একাংশ
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রীনা পারভীন বলেন, বঙ্গমাতা মানুষকে ভালোবাসার আর সহযোগিতা করার যেই মানসিকতা ছিল তা বিরল। তার জীবন হতে অনুপ্রানিত হয়ে নারী উদ্যোক্তা সংগঠেনের সদস্যদের ও পারস্পারিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

অতিথির বক্তবে ফারজানা খান বলেন, আমাদের নারী উদ্যোক্তারা অনেক দুর এগিয়েছে। এবারে তাদের নিজের দক্ষতা উন্নয়ন এবং পন্যের গুনগত মানের দিকে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে যারা খাবার নিয়ে যারা কাজ করে। পাশাপাশি যেকোন উদ্যোক্তাকেই তার ব্যবসায়িক সততার দিকে মনোযোগী হতে হবে। বঙ্গমাতার আদর্শকে ধারন করতে পারলে যেকোন নারী উদ্যোক্তাই অনুপ্রানিত হতে পারবে।

অনুষ্ঠানে লামিয়া প্রিন্টিং এন্ড ফ্লকের স্বত্বাধিকারী শাহনাজ আক্তারকে চরম প্রতিকূলতায় এগিয়ে চলা ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে শতাধিক মানূষকে কাজের সুযোগ করে দেয়ার সফলতা বঙ্গমাতার শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা সন্মানতা ২০২২ প্রদান করা হয়। এছাড়াও সন্মাননা দেয়া ক্ষুদ্র মুলধন নিয়ে উদ্যোক্তা জীবনে হোচট খেয়ে ঘুরে দাড়ানো সফলত নারী উদ্যাক্তা জেসমিন আক্তার চৌধুরীকে। এই দুই উদ্যোক্তাই তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

সভাপতির বক্তব্যে হোসনে আরা বেগম বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের অন্যতম স্বপ্ন সারথী ছিলেন বঙ্গমাতা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধোদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা এবং অনুপ্রানিত করেছেন বঙ্গমাতা। যুদ্ধপরবর্তী সময়েও সাহসের সাথে মা হয়ে আগলেছেন বীরংগনাদের। বঙ্গমাতার এই সহযোগিতামূলক মনোভাব হতে অনুপ্রানিত হয়েই যাত্রা শুরু ফেমনাসের (Fazilatunnessa Mujib Nari Udokta Songothon (FAMNUS)। নারী উদ্যোক্তা এবং উদ্যোক্তা সংগঠনগুলোর একটি নেটওয়ার্ক হিসাবে আত্মপ্রকাশিত ফেমনাসের। সেই সাথে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাবসায়িক সমস্যার পলিসিগত উন্নয়নের পাশাপাশি স্বপ্ন সারথী হয়ে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে ফেমনাস। ফেমনাসের একজন প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন আছিয়া নীলা, ডায়না জামান, মীর শাহেদ আলীসহ অন্যান্য অতিথিরা। অনুষ্ঠান শেষে এক পন্যপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় যেখানে অংশগ্রহন করেন ৩০ এর অধিক নারী উদ্যেক্তা।