শিরোনাম:

জমি থেকে মরিচ তুলে উঠছেনা খরচ

মেহেরপুরে ৩০কেজি মরিচ বিক্রি করে ১কেজি চাল!

‘দুই বিঘা জমিতে মরিচ আবাদ করেছি, কিন্তু বাজারে দাম না থাকার কারণে তুলতে পারছিনা। মরিচ ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে গেছে। তারপরও কিছু মরিচ তুলে বিক্রি করছি। মনে হচ্ছে মরিচগুলি রাস্তায় ছিটিয়ে দিই।’ কথা গুলি বলছিলেন মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামের মরিচ চাষী মইদুল ইসলাম।

চাষের খরচ না ওঠার অভিযোগে মইদুলের মতো অনেক চাষি ক্ষেতেই মরিচ নষ্ট করার চিন্তা করছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই মরিচের কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না তারা।

কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজারদর কম। লোকসান এড়াতে চাষিদের মরিচ পাকাতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

জমি থেকে মরিচ সংগ্রহ করতে শ্রমিক, পরিবহন, বাজারজাত ও আড়তের খরচ যাচ্ছে ১৩ টাকা। কাঁচা বাজারে পাইকারি কাঁচা মরিচ ১৫ টাকা করে বিক্রি হলেও খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের থাকছে প্রতি কেজি মরিচের দাম ২ টাকা। বাজারে এক কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। এক কেজি চাল কিনতে কৃষককে বিক্রি করতে হবে ৩০ কেজি মরিচ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খোলা বাজারে ২৫ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হলেও পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা কেজি দরে।

কুতুবপুর ইউনিয়নের চাষী মাজেদ জানান, এখন পর্যন্ত বিক্রি করে খরচ তুলতে পারিনি। এই ভাবে দাম পড়ে গেলে আবাদ করবো কেমন করে।

বুড়িপোতা গ্রামের কৃষক হাসানুর জানান, এইবার সর্ব্বোচ্চ এক হাজার টাকা মন বিক্রি হয় প্রথম দিকে। কিন্তু এখন মরিচ উঠানোর খরচই উঠছেনা।

সদরের ঝাউবাড়িয়া গ্রামের মরিচ চাষী রফিকুল হোসেন বুধবার জমি থেকে মরিচ সংগ্রহ করে সদরে আসেন বিক্রি করতে। আবদুল মজিদের আড়তে জিয়া জাতের ৪১ কেজি মরিচ বিক্রি করেন। তাকে ১৫ টাকা কেজি দরে দাম দেয়া হয়েছে ৪০ কেজির। তিনি বললেন ‘বাজারে সব জিনিসের দাম আকাশ ছোঁয়া। শুধু মরিচেরই দাম কমলো!’ এভাবে চললে আমার চলবো কেমন করে?

পাইকারি ক্রেতা মজিবর হোসেন বলেন, পাবনা, কুষ্টিয়ার দিকে মরিচ উঠছে, যার প্রভাব পড়েছে এখানকার বাজারে। তাছাড়া এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। সে কারণে বাজারে দামেরও প্রভাব পড়েছে। গতবারের চেয়ে এবার বাজার আরও খারাপ। এর ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক শঙ্কর কুমার জুমদার বলেন, ‘বাম্পার ফলন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। এ জন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি মরিচ না তুলে জমিতে পাকানো যেতে পারে। এতে লাভ বেশি। এটি করছেনও অনেকে।’ তিনি আরও জানান- মেহেরপুর জেলায় এবার ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে।