মেইন ম্যেনু

যেখানেই অসহায় মানুষের আর্তনাদ, সেখানেই তরুণ সোহেলের হাত!

আবু রায়হান মিকাঈল | কেউ স্বার্থপর হয়ে সুখী, কেউ স্বার্থ বিলিয়ে সুখী। তবে আমি কখনো স্বার্থপর হতে শিখিনি। সব সময় চেষ্টা করেছি অন্যের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে। এসবের বিনিময় একদিন কিছু পাব এমন আশা আগেও করিনি, আজও করি না। ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’ এই দায়িত্ববোধ থেকেই কিছু একটা করার চেষ্টা করেছি মাত্র। জানিনা কতটুকু পেরেছি। কথাগুলো একটু চিন্তিত সুরে বলছিলেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সোহেল আহম্মেদ। কণ্ঠস্বরে চিন্তিত সুর কেন জানতে চাইলে তিনি আওয়ার নিউজ বিডিকে বলেন, ‘এ সমাজের মানুষগুলো বড়ই অদ্ভত। কেউ কাউকে নিয়ে ভাবার সময় পায় না। চারপাশের অসহায় মানুষের চিৎকার, আর্তনাদ কারো কানে পৌঁছে না। আমার মতো এই সামান্য সোহেলের দ্বারা কি আর সম্ভব! তবুও চেষ্টা করে যাচ্ছি ঐ অসহায় মানুষগুলোর পাশে সব সময় থাকার।

“সবার সুখে হাসব আমি / কাঁদব সবার দুখে, নিজের খাবার বিলিয়ে দেব / অনাহারীর মুখে।” পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের এই কবিতাটি বুকে ধারণ করে নিজ স্বার্থ বিলিয়ে আজ পরম সুখী সোহেল আহম্মেদ। ইতোমধ্যে দিনাজপুরের এই তরুণকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

অসহায় মানুষের যেন বেঁচে থাকার সম্বল সোহেল আহম্মেদ। আজ পর্যন্ত কেউ খালি হাতে ফিরেনি তার নিকট থেকে। প্রতিবন্ধী, বিধাব, রোগাক্রান্ত, অসহায় দুস্থ্য পরিবারের পাশে তিনি সব সময়ই থেকেছেন। শুধু তাই নয়, গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্যও বাড়িয়ে দিয়েছেন সহায়তার হাত। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ পেয়েছেন তার সাহায্য।

সোহেল আহম্মেদ তার এই মানব সেবার বিষয়ে আরো জানান, মানব সেবা এখন তার নেশায় পরিণত হয়েছে। তিনি চাইলেও এটা আর ছাড়তে পারবেন না। কারণ- মানুষের সেবার মাঝে তিনি যে নিষ্পাপ হাসিগুলো দেখতে পান, সেগুলো তার কাছে হিরা-মুক্তার চেয়েও দামী। মানুষকে ভালবেসে তিনিও পেয়েছেন অকৃত্রি ভালবাসা।

শুধু মানব সেবা করেই ক্ষ্যান্ত হননি সোহেল আহম্মেদ। পাশাপাশি আরো অনেক সামাজিক কাজও তিনি করেছেন। বিভিন্ন সচেতনামূলক ফেস্টুন তৈরি করে ঝুলিয়ে দিয়েছেন জনবহুল এলাকাতে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে জানতে পেরে অনেকে সাহায্যের জন্য ইতোমধ্যে ছুঁটে গেছেন সোহেল আহম্মেদের কাছে। পেয়েছেন তরুণ সোহেলের বুকভরা ভালবাসা, সাথে সাধ্যমতো সাহায্যও।

এদিকে আবার সোহেল আহম্মেদ-এর ফেসবুক পেইজ ঘেটে পাওয়া গেছে অবাক হওয়ার মতো অনেক দৃশ্য। রাস্তার পাগল/পাগলীদের নিয়ে একসাথে এক টেবিলে হোটেলে খেতেও দেখা গেছে তাকে। শুধু তাই নয়, সমাজের চোখে নিম্ন শ্রেণীর মানুষের তিনি যে কত সহজে আপন করে বুুকে টেনে নিয়েছেন সেটারও আবেকঘন দৃশ্যটি আমাদের চোখে পড়ে।

জানতে চেয়েছিলাম সোহেল আহম্মেদের আয়ের উৎস সম্পর্কে। তিনি আমাদেরকে জানান, ‘আয়ের উৎস বলতে আমার একটা জুতার দোকার আছে। সেখান থেকে যেটা আসে সেটা দিয়ে আমরা চলি এবং বিভিন্ন মানুষের সাহায্য সহযোগিতা করি।’

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বীরগঞ্জ তথা দিনাজপুর অঞ্চলের অনেক প্রতিবন্ধী, বিধবা, সাঁওতাল, আদিবাসী, সুইপার এমনকী রাস্তার পাগলদের কাছে প্রিয় একটি নাম ‘সোহেল ভাই’। তিনি যেন এই মানুষগুলোর বেঁচে থাকার স্বপ্ন, আশার প্রদীপ। যখনই তারা পড়েছেন দারিদ্রতার করাঘাতে তখনই পাশে পেয়েছেন এই মহান মানুষটিকে। সোহেল আহম্মেদের মানবিতার ভালবাসা শুধু মানুষই নয়, সমানভাবে পেয়েছে অবালা জীব-জন্তুও। অনুসন্ধানের অনেক ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে তিনি রাস্তার ক্ষুধার্ত কুকুর, বেড়ালকেও খাওয়াচ্ছেন তিনি।

৩৭ বছরের এই সোহেল আহম্মেদ আজ হতে পারেন এ সমাজের জন্য একটা দৃষ্টান্ত। যে বয়সটি তারুণ্যের, যে বয়সটি উড়ে বেড়ানোর, সেই বয়সটি তিনি কাটিয়েছেন নিভৃত সমাজের অবহেলিত মানুষগুলোর সাথে। কখনো কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নয়, যেটি করেছেন নিজের প্রতি সমাজের দায়বদ্ধতা থেকেই করেছেন। বলতে পারি, সত্যি আজ স্বার্থক হয়েছে সোহেল আহম্মেদের তারুণ্যের বয়সটি।

আরো পড়ুন : প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্ন দিনাজপুরের ‘সোহেল ভাই’



মন্তব্য চালু নেই