শেয়ার দর বৃদ্ধিতে ওয়ালটনের রেকর্ড

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে লেনদেন শুরুর পর ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর টানা দুই দিন বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে। প্রথম দিনের মতো লেনদেনের দ্বিতীয় দিনও শেয়ার দর ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির সুযোগ থাকায় ওয়ালটন শেয়ারের মূল্য বেড়ে সর্বোচ্চ সীমা ৫৬৭ টাকায় বেচা-কেনা হয়েছে।

সার্কিট ব্রেকার সংক্রান্ত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ২০১৯ সালের নতুন নির্দেশনা জারির পর বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বৃদ্ধিতে রেকর্ড গড়েছে ওয়ালটন হাই-টেক। এর আগে আলোচ্য পদ্ধতিতে বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোনো কোম্পানির শেয়ার দর টানা দুই দিন বৃদ্ধি পেয়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করার ইতিহাস নেই বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ালটন শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক আগ্রহী বলেই দর বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড গড়েছে।

লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনের লেনদেন শুরুর পর মুহূর্তের মধ্যে ওয়ালটন হাই-টেকের শেয়ার ক্রয়ের জন্য বিনিয়োগকারীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন।

এদিন সকাল ১০টায় লেনদেনের শুরুতে ৫৪০ টাকা দরে ৭৫টি শেয়ার কেনার জন্য প্রথম ক্রয়াদেশ আসে। এরপর মুহূর্তের মধ্যে ৫৬৭ টাকা দরে ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার ৮৩৪টি শেয়ার কেনার জন্য ক্রয়াদেশ পড়ে। বেলা সাড়ে ১১টায় ৫৬৭ টাকায় ক্রয়াদেশ ছিল ৩৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫টি এবং দুপুর দেড়টায় সর্বোচ্চ দরে ২৯ লাখ ৩ হাজার ৩৬৯টি শেয়ারের ক্রয়াদেশ ছিল। শুরুতে ক্রয়াদেশের সংখ্যা বেশি থাকলেও আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা কাঙ্ক্ষিত শেয়ার কিনতে পারেননি। ফলে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক বিনিয়োগকারী ক্রয়াদেশ প্রত্যাহার করে নেয়।

এদিন লাখ লাখ শেয়ার ক্রয়াদেশ থাকলেও সর্বোচ্চ ৫৬৭ টাকা দরে ২ হাজার ৪৪২টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এতে শেয়ারটি আগের দিনের চেয়ে দর বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে। এরপর ক্রয়াদেশ আসতে থাকলেও বিক্রেতা ছিল না।

আগের দিন বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ৩৭৮ টাকায় লেনদেন হয়েছে ওয়ালটন হাই-টেকের শেয়ার। যা ওইদিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে।

গত বছরের ৫ নভেম্বর বিএসইসির ৭০৪তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেনের প্রথম দু’দিন ৫০ শতাংশ হারে সার্কিট ব্রেকার থাকবে। প্রথম দিনে ইস্যু মূল্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বেশি বা কমে শেয়ার কেনাবেচা হতে পারবে। লেনদেনের দ্বিতীয় দিনে প্রথম দিনের ক্লোজিং প্রাইসকে ভিত্তি ধরা হবে। লেনদেনের তৃতীয় দিন থেকে স্বাভাবিক হারে (১০ শতাংশ) সার্কিট ব্রেকার কার্যকর হবে।

এ সম্পর্কে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ রাইজিংবিডিকে বলেন, ভালো বলেই ওয়ালটনের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি। এ কারণে যারা আইপিওতে শেয়ার পায়নি তারা সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে কিনতে চেষ্টা করছে। কিন্তু গত দুদিন চেষ্টা করেও অনেকে এ শেয়ার কিনতে পারেনি। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী হতাশ হয়েছেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, ওয়ালটনের শেয়ারের সংখ্যা কম। কিন্তু বাজারে শেয়ারের চাহিদা অনেক বেশি। শেয়ারটির ক্রেতা বেশি থাকলেও বিক্রেতা না থাকায় খুব কম সময়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে হল্টেড হচ্ছে।

বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করে ভালো লাভের আশায় আইপিওতে ওয়ালটন শেয়ার পাওয়া বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার বিক্রি করতে আগ্রহী নন। ফলে গত দুইদিন ওয়ালটন শেয়ারের অনেক ক্রেতা থাকলেও, বিক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে।

শেয়ার প্রতি মুনাফা (ইপিএস), নিট সম্পদ মূল্যসহ সার্বিক ব্যবসায়িক পরিস্থিতি শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় ওয়ালটনের শেয়ারের চাহিদা অনেক বেশি। সেজন্য এ কোম্পানির শেয়ারের জন্য বেশি ক্রয়াদেশ দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন শামীম রাইজিংবিডিকে বলেন, বুকবিল্ডিংয়ে আসা কেনো কোম্পানির শেয়ার পরপর দুইদিন হল্টেড হওয়ার অর্থই হচ্ছে, ওই শেয়ারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে আসা কোম্পানির মধ্যে ওয়ালটন পরপর দুইদিন সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা অবস্থান করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এর আগে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।



মন্তব্য চালু নেই