শিরোনাম:

সড়ক দূর্ঘটনাই আর ঘটবেনা! এমনই এক রোবট আবিষ্কার করেছে নওগাঁর পত্নীতলার এক ক্ষুদে বিজ্ঞানী

সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধক ও সড়ক বিষয়ক আরো
অন্যান্য সেবার লক্ষ্যে নওগাঁর পত্নীতলা সদর নজিপুর পৌরসভার এক তরুন আবিষ্কার করেছে এক অভিনব রোবট। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা বা অন্য কোন উৎস থেকে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আর কোন সড়ক দূর্ঘটনায় ঘটবেনা দাবি করে এই তরুন। রোবট আবিষ্কারক নাদিম শাহরিয়ার অপূর্ব নজিপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর বিজ্ঞান শাখার এক জন ছাত্র।

গত কয়েক বছরে ব্যাপক সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ অর্থাৎ চলতি বছরেও রেকর্ড পরিমান সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে।কেউ হারিয়েছে বাবা ,কেউ হারিয়েছে ,কেউ হারিয়েছে সন্তান। এ যেন এক নিত্যদিনের ঘটনা। এরই মধ্যে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গণ আন্দোলনে রূপ নিয়েছিলো। বেশ কিছু পরিকল্পনাও নেওয়া হয় তখন। কিন্তু রোড এক্সিডেন্টের ঘটনা থেমে নেই। দু সপ্তাহ পূর্বে সড়ক দূর্ঘটনায় এক গর্ভবতি মা চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যান ,কিন্তু পেট ফেটে মায়ের গর্ভে থাকা শিশু বাচ্চা বেরিয়ে আসে।

নাদিম শাহরিয়ার অপূর্ব জানায়, সড়ক দুর্ঘটনা গুলোর কথা মাথায় রেখে আমার এই প্রজেক্ট যার নাম স্মার্ট কার ইউথ এক্সিডেন্ট এলার্ট সিস্টেম। এর সামনে যেকোনো ধরনের বস্তু আসলে এটি তৎক্ষণাৎ থেমে যাবে। অর্থাৎ এই গাড়িটির দ্বারা কখনো সড়ক
দূর্ঘটনা সম্ভব নয়। কিন্তু এই গাড়িটি দ্বারা সড়ক দূর্ঘটনা সম্ভব না হলেও অন্য কোন গাড়ি এসে এটিকে ধাক্কা দিতে পারে বা অন্য কোন গাড়ির দ্বারা এই গাড়িটি সড়ক দুর্ঘটনায় আবদ্ধ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গাড়িতে লাগানো সেন্সর সমূহ সড়ক দুর্ঘটনা সনাক্ত করবে এবং আশেপাশের পুলিশ স্টেশন , ফায়ার সার্ভিস ,হাসপাতাল এবং তার আত্মীয়-স্বজনকে একটি গাড়ির লোকেশন এসএমএসের মাধ্যমে পাঠাবে এবং এসএমএস এর
উপরে লেখা থাকবে “যানবাহন দূর্ঘটনা”, এর ফলে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে যার ফলে একজন আহত ব্যক্তির বাঁচার চান্স অনেকাংশে বেড়ে যাবে অন্যদিকে এটি বাস্তব জীবনে ব্যবহারের ফলে সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর
সাথে সাথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমানো যাবে।

এটি তারবিহীন ওয়ারলেস ভাবে নিয়ন্ত্রন করা যাবে। এইটা যদি বাংলাদেশের প্রত্যেকটি যানবাহনে লাগানো হয় তাহলে সড়ক দুর্ঘটনার হার শূন্য়ে নেমে আসবে বলে দাবি করে নাদিম শাহরিয়ার অপূর্ব। আরেক প্রশ্নের উত্তরে সে বলে, এটা যানবাহনে ব্যবহারের উপর সড়ক দুর্ঘটনার রোধের পার্সেন্টেজ টি আসবে। তবে এটি যে যানবাহনে লাগানো থাকবে সেই যানবাহনটি দ্বারা কখনো এক্সিডেন্ট সম্ভব হবে না কারন এটিতে আল্ট্রা সনিক ব্যবহার করা হয়েছে। যদি অন্য কোন গাড়ির কারণে যদি এই গাড়িটি সড়ক দুর্ঘটনা আবদ্ধ হয় বা অন্য কোন গাড়ি এসে যদি এই গাড়িটিকে ধাক্কা মারে সেক্ষেত্রে যে জায়গায় সড়ক দূর্যটনা ঘটবে সেই জায়গার লোকেশন আশেপাশের পুলিশ স্টেশন , হসপিটাল এবং ফায়ার সার্ভিস এ এসএমএস মাধ্যমে পাঠাবে।

আবিষ্কারের চিন্তা ,পরিকল্পনা ,খরচাপাতি তথা আবিষ্কারের পিছনের ঘটনা ও এটা নিয়ে সামনের পরিকল্পনা ,পৃষ্টপোষকতা সমন্ধে জানতে চাওয়াই ছিলো শাহরিয়ার নাদিম অপূর্বের কাছে শেষ প্রশ্ন। তরুন এই ক্ষুদে বিজ্ঞানী তার আবিষ্কারের গল্প জানায় ঠিক এভাবে যে, আমার নানা পল্লী বিদ্যুতের একজন বোর্ড সভাপতি ছিলেন।

ছোটবেলা থেকেই দেখতাম তিনি নানা ধরনের ইলেকট্রিক্যাল কাজ কর্ম করতেন তো তখন
থেকেই আমার এই ইলেকট্রিক্যাল কাজের প্রতিটি একটি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তারপরে ২০১৯ সালে বাংলাদেশে যখন একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে তখন আমার মাথায় একটি বিষয়ে কাজ করে যদি এ সড়ক দূর্ঘটনা সমূহ আটকানো যায় বা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার পর যদি সে খবরটি দ্রুত হসপিটাল, পুলিশ স্টেশন , ফায়ার সার্ভিস এ পাঠানো যায় তাহলে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। ২০১৯ সালে
আমি ষষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছিলাম। যেহেতু তখন আমি একেবারে ছোট তাই এমন কোন রোবট বানানোর কথা আমার মাথায় আসেনি তখন শুধু একটা কথাই ভাবতাম কীভাবে এ সড়ক দুর্ঘটনাগুলো আটকানো যায়। আমি বর্তমানে নবম শ্রেনিতে অধ্যায়নরত আছি।
কিছুদিন আগে আমি আমার স্কুল নজিপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এর পক্ষ থেকে সাইন্স প্রজেক্ট প্রদর্শনী প্রতিযোগীতায় উপজেলা পর্যায়ে প্রথম , জেলা পর্যায়ে প্রথম এবং বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছি। গত মাসে দীপ্ত টিভি আয়োজিত বিজ্ঞানী অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছি তারপরে আমার আগ্রহটি আরো বেড়ে যায় এবং সে আগ্রহের উপর ভিত্তি করেই আমি আমার এই রোবটটি তৈরী করেছি । আমি যেহেতু নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত আছি তাই এ প্রজেক্ট গুলো তৈরিতে আমি তেমন অর্থনৈতিক সাহায্য পাই না। প্রজেক্টগুলো তৈরিতে সম্পূর্ণ খরচ আমার পরিবার বহন করে । যদি আমাকে সরকারিভাবে বা বেসরকারিভাবে কোন প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করে তাহলে আমি এটি বিষয়গুলো নিয়ে আরো সামনে যেতে পারবো । বাজারে এই রোবট নিয়ে আসা ও স্বপ্নও পূরন হতে পারে অভিমত তার।