শিরোনাম:

১০ মাসের শিশুর বিরুদ্ধে চার্জশিট!

মারামারি আর চুরির অভিযোগে ১০ মাসের একটি শিশুর বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। ঘটনা ঘটনার সময় তার বয়স ছিলো মাত্র ২৮ দিন। শুধু তাই নয়, ওই চার্জশিটে একজন মৃত ব্যক্তির রয়েছে। যিনি ২০১৩ সালেই মারা গেছেন।

এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মারুফুল ইসলামকে তলব করেন আদালত।

মঙ্গলবার (৯ মে) ছিল তদন্ত কর্মকর্তার হাজিরার দিন। তবে ইতোমধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আদালতে হাজির হতে সময় চেয়ে আবেদন করেছেন এসআই মারুফুল ইসলাম।

এসআই মারুফুল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মামলার বাদী বাদী হাবিবুর রহমান শিশু রুবেলের নাম উল্লেখ করে এজাহারে তার বয়স ত্রিশ বছর উল্লেখ করেছেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তাদের দেখতে পাননি। তাই সেভাবেই চার্জশিট দিয়েছেন।

তবে তদন্তে আসামিদের সত্যিকার বিবরণ বেরিয়ে আসার কথা এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেননি ওই তদন্ত কর্মকর্তা। কারো প্ররোচনায় তদন্ত না করেই অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমিই তদন্ত করেছি। আসলে সেখানে একটু ভুলভ্রান্তি হয়ে গেছে।’

মিরপুর থানায় দায়ের করা এজাহারে মামলার বাদী হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের ২৬ জুন মধ্য পাইকপাড়ায় তার জমি দখল করতে আসে ২৩ জন আসামি। তারা তার দোচালা ঘরের টিন ভেঙে ফেলেন এবং সোনার চেইন ও নগদ টাকা চুরি করেন। বাদী এজাহারে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন, যাদের মধ্যে আবুল কাশেম এবং রুবেল ও তুষার নামে তার দুই ছেলের উল্লেখ রয়েছে।

মামলায় শিশু রুবেলের বয়স ৩০ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে রুবেল নামটি একজন শিশুর। যার বয়স ঘটনার সময় ১৮ দিন আর বর্তমানে ১০ মাস।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মারুফুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ১০ মাসের শিশু রুবেল ও মৃতব্যক্তি আরিফুর রহমানসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। তাতে শিশু রুবেল, মৃত ব্যক্তি আরিফুর রহমানকে পলাতক দেখানো হয়।

সেজন্য আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর তারা আদালতে হাজির হলে আদালত এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।