অর্থবছরের সময় পরিবর্তন ও কর্মপন্থা নির্ধারণে কমিটি গঠন

অর্থবছরের সময়সীমা জুলাই-জুন থেকে পরিবর্তন করে এপ্রিল-মার্চ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কর্মপন্থা নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিকে সংবিধান ও জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭’র প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কর্মপন্থা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটিবিষয়ক অধিশাখার জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটিতে ‘সচিব’ বলতে সিনিয়র সচিবকেও বোঝাবে।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭’র প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে।

কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে কমিটির কার্যক্রম কার্যকর হয়েছে।

এর আগে আগামী ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে দেশের অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ এপ্রিল থেকে পরবর্তী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর গণনা করা হবে। বর্তমানে দেশে অর্থবছর শুরু হয় ১ জুলাই এবং শেষ হয় ৩০ জুন।

নতুন সময়সীমায় যাওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে নয় মাসের অন্তর্বর্তী অর্থবছর হিসেবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ওই অর্থবছর চলবে জুলাই ২০২৭ থেকে মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত। এরপর ১ এপ্রিল ২০২৮ থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।

সরকারের পক্ষ থেকে অর্থবছর পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের সময়সূচির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে অর্থবছরের শেষ সময়ে অর্থাৎ জুনের পরও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ জুলাই ও আগস্ট পর্যন্ত গড়ায়। এ সময়ে বর্ষা ও ভারী বৃষ্টির কারণে অবকাঠামো নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি হয়। এতে কাজের গতি কমার পাশাপাশি কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে এবং সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, অর্থবছর এপ্রিল থেকে মার্চ করা হলে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই অবকাঠামো উন্নয়নের বড় কাজগুলো শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে বর্ষাকালে উন্নয়নকাজ পরিচালনার কারণে সৃষ্ট জটিলতা কমবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।