আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে : জামায়াত আমির

আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, এই বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী এবং পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়। কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্য নয় বরং দুনিয়ার বুকে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি, সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেই অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শোষণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমি যুব সমাজের প্রতি আরেকবার প্রাণ খুলে আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, সীমান্তে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে। পুশ-ইনের নামে একটা দেশে তাদের নাগরিকদের অবৈধভাবে আমাদের দেশে ফেলে দিতে চাচ্ছে। আমাদের মুষ্টিমেয় বিজিবি সদস্য সীমান্তে যখন দাঁড়িয়ে গেছে, জনগণ তখন তাদের ডান হাতে পরিণত হয়েছে। এই ডান হাত সারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ। আমরা চাই না আমাদের কোনো প্রতিবেশীর ঘুম এবং শান্তি কেড়ে নিতে। আবার কোনো প্রতিবেশী আমাদের দিকে তাদের কালো হাত বাড়াক, ওইটাও আমরা চাই না। যদি কেউ আমাদের দিকে কালো হাত বাড়ায়, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলছি- সেই কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রাখেনি। আমরা বিএনপিকে বলছি, দেশ এবং জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল করছেন, ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন। জনরায়কে সম্মান করুন, জনরায়কে সম্মান করার পরিণতি কি হতে পারে দফায় দফায় দেখার পরেও যদি শিক্ষা না হয়, জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না।
তিনি বলেন, খুলনাবাসী আপনারা যে রায় দিয়েছিলেন, সেই রায়টিই আপনাদের কাছে চেয়েছিলাম। আর আমরা বলেছিলাম, এই রায় বাস্তবায়ন করা হবে সংসদে গিয়ে। চুরি, ডাকাতি, ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নেওয়া হোক। আমরা সংসদে যা আছি তাই নিয়ে সিংহের মতো লড়াই করে যাব। আমরা জানি সহজে কানে পানি ঢুকবে না, তখন সিরিঞ্জ দিয়ে যদি ঢোকাতে হয়, তাহলে আমরা ঢোকাতে। যদি ফয়সালা সংসদে না হয়, তাহলে যেখানে কথা বলতে মাননীয় স্পীকার বলতে হয় না, যেখানে কথা বলতে স্পীকারের অনুমোদন লাগে না। সেই খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়ার মাঠ সব জায়গা থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। এই আগ্নেয়গিরির দাবানলে সমস্ত আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।
শফিকুর রহমান বলেন, শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে নির্বাচনের ফলাফলকে আমরা মেনে নিয়েছি। দেশে একটা গৃহযুদ্ধ শুরু না হোক সেই জন্য আমরা মেনে নিয়েছিলাম। আমরা কারও বাপ-দাদার চোখ রাঙানোকে পরোয়া করব না। অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না। আমাদের নেতারা হারতে হারতে ফাঁসির তক্তায় দাঁড়িয়ে মুচকি হাসি দিয়ে শিখিয়ে দিয়েছেন জাতির জন্য প্রয়োজনে তোমাদেরকেও এই মুচকি হাসি দেওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে। খানজাহান আলী, শাহাজালালের এই বাংলাদেশে জনগণ সেই মুচকি হাসি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানসহ অনেকে।





























