জবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, ছাত্রদলের প্রতিরোধে ক্যাম্পাস ছাড়লো ছাত্রশিবির

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আয়োজিত আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে অনুষ্ঠানের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এর প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয়।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, “ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টের যে কোনো অপচেষ্টা ছাত্রদল কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী শক্তি হিসেবে ছাত্রশিবির বারবার ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজও তারা ক্যাম্পাসে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তা প্রতিরোধ করে এবং তাদের ক্যাম্পাস ত্যাগে বাধ্য করে। ভবিষ্যতেও ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রদল সব ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।”

এ বিষয়ে ছাত্রদলের ২ নং যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি বলেন, “ক্যাম্পাসে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তা নষ্ট করার জন্য যারা ষড়যন্ত্র করবে, তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রদল সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ক্যাম্পাসে কোনো গোপন অপতৎপরতা বা ষড়যন্ত্রকারীদের স্থান হবে না। শিক্ষার পরিবেশ ও ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমরা সব ধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান অব্যাহত রাখব। আর এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।