জবিতে ‘পরিকল্পিত অস্থিতিশীলতা’ সৃষ্টি করছে ছাত্রশিবির, অভিযোগ ছাত্রদলের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানকে ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রশিবিরের ৪০–৫০ জন নেতাকর্মী জোরপূর্বক প্রবেশ করে অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করেন। এ সময় চলমান অনুষ্ঠান পণ্ড হওয়া থেকে রক্ষা এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। পরবর্তীতে ছাত্রশিবিরের উসকানিমূলক আচরণের কারণেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ছাত্রশিবির এখন দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের দাবি তুলছে। তবে বাস্তবে ওই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল ছাত্রদল ও অন্যান্য প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন, যেখানে ছাত্রশিবির বিরোধিতা করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, নিয়মতান্ত্রিকভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও শিবিরের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে উন্নয়ন কার্যক্রমকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
ছাত্রদল তাদের বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ, অনলাইনে জামায়াত ও শিবিরের শীর্ষ নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক সহিংস কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাটি ঘটেছে।
এছাড়া, জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণ, নারী কেলেঙ্কারি ও বিকৃত যৌনাচারের বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসায় জনদৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষার কৌশল হিসেবেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জানায়, তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তবে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তাদের অবস্থান কঠোর থাকবে।






























