রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরির পরীক্ষায় বৈষম্য করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরির পরীক্ষা বা কোনো ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও কোনো ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে না। ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলাফলে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া ৬৬৮ জনের মধ্যে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থাৎ সুপারিশের পরও প্রজ্ঞাপনে নেই ৫৭ প্রার্থীর নাম। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
৪৯তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপনের সংখ্যা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃত তথ্য হচ্ছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) থেকে দেওয়া হয়েছে ৬৬৫ জন। কারণ তিনজন তাদের সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি। কারণ আপনারা জানেন বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য এপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়ে এপিয়ার হওয়া যায়। চূড়ান্তভাবে সেই সনদটি প্রফেশনাল সার্টিফিকেট হলেও জমা দিতে হবে, সেটা দিতে পারেননি। আর আটজন মেডিকেল টেস্টে প্রেজেন্ট হননি। শারীরিক যোগ্যতার মেডিকেল টেস্টের যেটা বিধান আছে, ওখানে হাজিরই হননি। তাহলে সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫৭।’
‘এই ৬৫৭ জনের মধ্যে ৬১১ জনের প্রজ্ঞাপন হয়েছে’- উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাকি থাকলো ৪৬ জন। কিন্তু কেউ এই প্রশ্ন তোলেনি যে কি আর প্রজ্ঞাপন হবে কি না। এই ভেরিফিকেশনের জন্য যেটা বাধ্যবাধকতা- এখানে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে ভেরিফিকেশন হয় কেন? মেডিকেল টেস্টেরটা তো একটা বাধ্যবাধকতা, সার্টিফিকেট জমা দেওয়াটা একটা বাধ্যবাধকতা।’
রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি কয়েকটি বিষয় আপনাদের সামনে পরিষ্কার করছি। আমরা বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অঙ্গীকার করেছি, আন্দোলন করেছি, গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে; এই বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য। রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক- এসব পরীক্ষা বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে সে কারণে কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে না।’
উদাহরণ হিসেবে মন্ত্রী বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়াতে মনে হয় ফেসবুকে একজন স্ট্যাটাস দিয়েছেন- তিনি আত্মহত্যা করবেন।’ এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন একবার হয় না কয়েকবার প্রজ্ঞাপন হতে পারে। সার্ভিসে যোগদানের তারিখ সম্ভবত ১২ তারিখ। আজকে এক তারিখ, মাঝে আরও ১১টা দিন আছে; যারা এসব উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করছেন তার মধ্যে তিনি একজন।’
ওই প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার রাজনৈতিক পরিচয় হচ্ছে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের একটি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠনের পদবিধারী নেতা ছিলেন। সম্ভবত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন হল শাখার। তার সেই রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে তিনি সন্দেহ করে নিয়েছেন- তাকে আর চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হবে না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখন ঘোষণা করছি, আগেও বলেছি- কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে কারও প্রতি কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে না। কিন্তু ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কারও বিরুদ্ধে যদি গুরুতর কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকে পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। সেজন্য শতকরা একজন বা হাজারে দুই একজন এরকম সে অপরাধের কারণে বাদও পড়তে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে যদি এরকম কোনো কনভিকশন থাকে সেটা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত, আপিলে খালাস হওয়া পর্যন্ত সে রকম কিছু কিছু বিধান থাকে। না হলে পরবর্তীতে পাবলিক সার্ভিসের নিয়োগগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সে রকম অনেক বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ অতীতে হয়েছে, আমরা দেখেছি। তো ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ করব তাদের।’
এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও জাতীয় সংসদের সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক ফেসবুক পোস্টকে ইঙ্গিত করে মন্ত্রী বলেন, ‘আর একজন স্ট্যাটাস দিয়েছে তিনি আমি নাম নেব না; তিনিও একজন রাজনৈতিক দলের নেতা। তিনি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বিভিন্ন রকমের স্ট্যাটাস দিয়েছে যে, ভেরিফিকেশনের নামে সব অপসংস্কৃতি বন্ধ করা হোক; ভেরিফিকেশনের নামে নিপীড়ন বন্ধ করা হোক।’
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভেরিফিকেশন একটা নিয়মিত প্রক্রিয়া। সেটা সবসময় সব সরকারের সময় বিধি মোতাবেক করা হয়ে থাকে। কিন্তু জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করার অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করব।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নিয়োগপত্র ইস্যু করার জন্য আরও একটা দিন আছে, আগামী সোমবারে। বাকি আছে ৪৬ জন, তাদের জন্য প্রজ্ঞাপন জারির দিন নির্ধারিত আছে। তার আগে কিছু প্রক্রিয়া আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর যারা এসব তথ্য বা অপতথ্য প্রচার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বা অপচেষ্টা করছে তাদের এসব পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
৪৬ জনের প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া একরকম শেষ হয়েছে। আমি জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি, আমাদের ক্যাবিনেট সেক্রেটারির সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা কাজ করছেন, এমনকি শনিবারে ছুটির দিনেও কাজ করবেন। শনিবারে ছুটির দিনেও কাজ করবেন এই প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য।’






























