রাত পোহালেই নরসিংদীর দুই উপজেলায় ভোট

রাত পোহালেই বুধবার (৮ মে) অনুষ্ঠিত হবে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপে নরসিংদী সদর ও পলাশ উপজেলা পরিষদের ভোটগ্রহণ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন নির্বাচন কমিশন। সোমবার রাতেই প্রতিদ্বন্দ্বি চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা শেষ করেছেন শেষ মুহুর্তের প্রচার প্রচারনা ও গণসংযোগ।

মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ ও পলাশ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গন থেকে ব্যালট বক্স ও সিলসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি বিতরণ শুরকরা হয়।

পলাশ উপজেলার ৬৩ ভোটকেন্দ্রে এবং নরসিংদী সদরের ১৭৫ টি ভোটকেন্দ্রসহ মোট ২৩৮টি ভোটকেন্দ্রে এসব সরঞ্জাম নিয়ে যান প্রিজাইডিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে, ব্যালট পেপার পৌঁছাবে ভোটগ্রহণের দিন সকালে।

সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে ভোট গ্রহণের লক্ষ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ রবিউল আলম।

ভোটাররা জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রতি দিয়ে ভোট কামনা করেছেন। নির্বাচনকে ঘিরে জমজমাট প্রচারনা ছিল পলাশ উপজেলায়। সে তুলনায় সদর উপজেলায় ভোটের আমেজ ছিল অনেকটা কম। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন।

পলাশ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী (দোয়াত কলম) সাবেক পৌর মেয়র ও ঘোড়াশাল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুল হক বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ হবে বলে আশা করছি। এ নির্বাচনে ভোটাররা আমাকে বিজয়ী করবেন বলে আমি শতভাগ আশাবাদী। আমি নির্বাচিত হলে অতীতে যেভাবে পৌর মেয়র হিসেবে মানুষের সেবা করেছি, সেভাবেই মানুষের পাশে থাকব ইনশাল্লাহ।

একই উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী (কাপ-পিরিচ), বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সৈয়দ জাবেদ হোসেন বলেন, নির্বাচনী প্রচারনা পর্যন্ত কয়েকটি ছোট ঘটনা ছাড়া নির্বাচনী প্রচার পরিবেশ খুবই ভাল ছিল। আমি দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের সেবক হয়ে কাজ করেছি। সে হিসাবে সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছি। আমি আশা করছি নির্বাচন কমিশনের কথা অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট হলে জনগণ আবারও বিপুল ভোটে আমাকেই বিজয়ী করবেন।

এদিকে নরসিংদী সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে কাপ-পিরিচ প্রতিক নিয়ে আলোচনায় আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। তারপক্ষে কাজ করছেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে আনারস প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শীলমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল বাকির। এ দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

নরসিংদী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য সবধরনের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। আশা করছি ভোটারদের উপস্থিতিতে একটি উসবমুখর ভোটগ্রহণ সম্ভব হবে। নির্বাচনে যে কেউ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবে আইন অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পদক্ষেপ নেবেন।

পলাশ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়া সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মোট ৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নরসিংদী সদর উপজেলার ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৯ জন ভোটারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১৭৫টি ভোট কেন্দ্র এবং পলাশ উপজেলায় ১ লাখ ৮২ হাজার ৩১৮ জন ভোটারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬৩টি ভোট কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৮ মে নরসিংদী সদর ও পলাশ উপজেলায়, দ্বিতীয় ধাপে ২৩ মে বেলাব উপজেলা ও মনোহরদী, তৃতীয় ধাপে ২৯ মে রায়পুরা ও শিবপুর উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।