‘শিগগিরই ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করবে ভারত’

ঢাকা-চেন্নাই-ঢাকা, চট্টগ্রাম-চেন্নাই-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে এয়ার বাবল চুক্তির অধীনে সিডিউল ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে ইউএস-বাংলা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে ঢাকা-চেন্নাই ও ঢাকা-কলকাতা রুটে ফ্লাইট দুটির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

বুধবার সকালে বাংলাদেশ থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে প্রথম বিশেষ ফ্লাইট ছেড়ে যায়। প্রথম দিন ইউএসবাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইট ছেড়ে যায়। ৯টি ক্যাটাগরিতে ‘এয়ার বাবল’ চুক্তির আওতায় আকাশপথে যাতায়াত শুরু হলো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে।

যাত্রীদের বেশিরভাগই সব রকম নিয়ম মেনে চিকিৎসা সেবা নিতে ভারতে যান। দীর্ঘ বিরতির অবসান হওয়ায় স্বস্তি তাদের।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান।

ইউএসবাংলা এয়ারলাইন্স আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী জানান, ‘শিগগিরই ভ্রমণ ভিসা চালু করা হবে।’

যাত্রী, ক্রুসহ সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান জানান, যাত্রার ৭২ ঘন্টা আগে প্রত্যেক যাত্রীকে কোভিড টেস্ট করাতে হবে। তবে ভারত থেকে আসা কোন যাত্রীর কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক নয়, শারীরিক তাপমাত্রা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঢাকা-কলকাতা, ঢাকা-চেন্নাই রুটের প্রথম দিনে ৪০ জনের মতো যাত্রী গিয়েছেন। প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ হাজার ভিসা অনুমোদন দেয়া হয় ভারতে। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিমানে যাতায়াত করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ক্যাপ্টেন শিকদার মেজবাহউদ্দিন আহমেদ।

এয়ার বাবল চুক্তির অধীনে কোভিড-১৯ কালীন সময়ে সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুদেশের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে চেন্নাই ও কলকাতা ও চট্টগ্রাম থেকে চেন্নাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে।

সোমবার বাদে সপ্তাহের ছয়দিন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে কলকাতায় অবতরণ করবে। কলকাতা থেকে স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় ছেড়ে আসবে এবং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে অবতরণ করবে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স প্রতি সোম, বুধ, শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে চেন্নাইয়ে অবতরণ করবে। একই দিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে চেন্নাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে এবং বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করবে।

প্রতি মঙ্গল, বৃহস্পতি ও রোববার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে চেন্নাই ও চেন্নাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

উল্লেখিত দিনে ঢাকা থেকে সকাল ৯টায় এবং চট্টগ্রাম থেকে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং চেন্নাই থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে আসবে এবং চট্টগ্রামে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ও ঢাকায় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে পৌঁছাবে।

১৬৪ আসনের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে চেন্নাই ও কলকাতা রুটের ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হবে।

বর্তমানে ইউএস-বাংলার বিমান বহরে চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, ছয়টি ব্র্যান্ডনিউ এটিআর৭২-৬০০ সহ মোট ১৩টি এয়ারক্রাফট রয়েছে।

চেন্নাই ও কলকাতা ছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বর্তমানে মাস্কাট, দোহা, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, গুয়াাংজু রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

এছাড়া অভ্যন্তরীণ রুট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশালে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা।

চেন্নাই ও কলকাতা রুটে রি-ওপেনিং ফ্লাইট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊধ্র্বতন কর্মকর্তা, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও অন্যান্য বিমান সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।