সরকার উন্নয়নের নামে দেশের মানুষকে ধোকা দিচ্ছে-রিজভী

সরকার উন্নয়নের নামে দেশের মানুষকে ধোকা দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

শনিবার (২৭ মে) বিকেলে যশোর শহরের ভোলা ট্যাংক রোডে (রাসেল চত্বর) এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সরকার পদত্যাগের ১০ দফা দাবিতে দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জনসভার আয়োজন করে যশোর জেলা বিএনপি।

রিজভী বলেন, ‘আলোর গতির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। শেখ হাসিনা একের পর এক দেশ ভিজিট করছেন। দেশে ফিরে এসে তিনি উন্নয়নের গল্প শোনান। ৯০০ টাকায় গরুর মাংস খেতে হচ্ছে; চিনি তো পাওয়াই যাচ্ছে না। চিনির যে অবস্থা বাংলাদেশে ‘চিনি বিদেশিনী’ গানের মতো হয়ে গেছে। যেখানে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারছে না সেখানে এত উন্নয়নের গল্প কীসের?’

সমাবেশে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আমরা তো হাসিনার আমলে আছি। এই আমলে বাড়ি আর কারাগারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। পুলিশ রাতে বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে; নির্বিঘ্নে সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারছে না। বিএনপির নেতাকর্মীরা সবসময় পুলিশের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। মুক্ত পরিবেশে বাইরে থাকলেও আমরা চার দেওয়ালের মধ্যে কারাগারেই বন্দি।’

গাজীপুর সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘একজন থ্রি-ফোর পাস করা নারীর কাছে আওয়ামী লীগ ফেল করেছে। আসলেই এই নির্বাচন সরকারের ভেলকিবাজি ছাড়া কিছুই নয়। ৫৪ শতাংশ ভোটার কেন্দ্রে যায়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের নামে সরকার নির্বাচনের টোপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনা গায়ের জোরে তার প্রশাসন দিয়ে এখনো ক্ষমতায় রয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নয়। একমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আর সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগ আর ক্ষমতায় যেতে পারবে না। তাই আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে চায় না।

যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ-কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবিরা নাজমুল, জেলা বিএনপির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসহক, মোহাম্মদ মুসা, আব্দুস সালাম আজাদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাবেরুল হক সাবু প্রমুখ বক্তব্য দেন।