চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ফার্মেসি, হাসপাতাল ও রেস্টুরেন্টসহ ৭ প্রতিষ্ঠানে জরিমানা

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়।
যৌথ বাহিনীর সহায়তায় হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে ফার্মেসি, হাসপাতাল ও রেস্টুরেন্টসহ মোট ৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় সর্বমোট ১,২৩,০০০/- (এক লাখ তেইশ হাজার) টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
১২ জানুয়ারি সোমবার দিনব্যাপী পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি খাবার হোটেল ও মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী এসব অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অভিযান চলাকালে পঁচাবাসী খাবার সংরক্ষণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরির অপরাধে হাজীগঞ্জ বাজারের ‘হাজী সুইটস’-কে সর্বোচ্চ ৫০,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়।
একই ধরনের অপরাধে ‘নবাবী হোটেল’-কে ১৫,০০০/- টাকা এবং ‘রিজিক হোটেল’-কে ৫,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ সস ব্যবহার করে খাবার পরিবেশনের অপরাধে ‘খাওয়া দাওয়া হোটেল’-কে ৩০,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতেও অনিয়ম ধরা পড়ে অভিযানে। ডেঙ্গু পরীক্ষার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগে হাজীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালকে ৮,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ওষুধ ব্যবসায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় একটি ফার্মেসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করার অপরাধে ‘মিডওয়ে ফার্মেসি’-কে ১০,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মিথ্যা ‘ডক্টর’ পদবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপরাধে ‘দেশ ফার্মেসি’-কে ৫,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে মোট ৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সর্বমোট ১,২৩,০০০/- টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলার সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী জরিমানার আদেশ দেন।
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে স্বেচ্ছায় জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মে জড়াবে না বলে অঙ্গীকার করে।
অভিযান চলাকালে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হাজীগঞ্জ বাজারের অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করা হয়।
পাশাপাশি সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভোক্তা অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই অভিযান হয়। ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
এ অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর মো. নজরুল ইসলাম, হাজীগঞ্জ উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর মো. জসিম উদ্দিন এবং যৌথ বাহিনীর একটি টিম। অভিযানে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, জনস্বার্থে এবং ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বাজারে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে। ভোক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং নিরাপদ খাদ্য ও সঠিক সেবা নিশ্চিত হবে।






















