৬৮ বছরেও কেউ স্পর্শ করতে পারেনি বিশ্বকাপের যে রেকর্ড

বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এমন কিছু রেকর্ড রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে আরও কিংবদন্তিতুল্য হয়ে উঠেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও অক্ষত রেকর্ডটি হলো ফ্রান্সের সাবেক স্ট্রাইকার জ্যঁ ফঁন্তেইনের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের কীর্তি, যা ৬৮ বছরেও ছুঁতে পারেনি কেউ।
১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে মাত্র ছয় ম্যাচে ১৩ গোল করে ইতিহাস গড়েছিলেন ফঁন্তেইন। তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড হিসেবে আজও অটুট রয়েছে। প্রায় সাত দশক পেরিয়ে গেলেও বিশ্বের কোনো মহাতারকা—পেলে, রোনালদো, মেসি কিংবা এমবাপ্পে—এই রেকর্ডের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেননি।
সেই টুর্নামেন্টে ফঁন্টেইন প্যারাগুয়ে, স্কটল্যান্ড, যুগোস্লাভিয়া, উত্তর আয়ারল্যান্ড, ব্রাজিল এবং পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে গোল করেন। যদিও ফ্রান্স সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নেয়, তবুও তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে জায়গা করে নেয়।
ফঁন্তেইনের ১৩ গোলের পর এক আসরে সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছান হাঙ্গেরির সান্দোর কোচিস, যিনি ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ১১ গোল করেন। এরপর ১৯৭০ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির গার্ড মুলার ১০ গোল করে তালিকায় তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নেন। ইতিহাসে আরও কয়েকজন তারকা এই রেকর্ডের কাছে এলেও কেউই ফঁন্টেইনের কীর্তিকে ছুঁতে পারেননি।
১৯৫০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আদেমির দে মেনেজেস এবং ১৯৬৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের ইউসেবিও ৯টি করে গোল করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৩০ সালে গুইয়েরমো স্তাবিলে, ২০০২ সালে রোনালদো নাজারিও এবং ২০২২ সালে কিলিয়ান এমবাপ্পে ৮টি করে গোল করেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে এমবাপ্পে ফাইনালে হ্যাটট্রিকসহ অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখালেও ফঁন্টেইনের রেকর্ড অক্ষুণ্ণই থেকে যায়।
অন্যদিকে লিওনেল মেসি ২০২২ বিশ্বকাপে ৭ গোল করে তালিকায় জায়গা করে নেন এবং সেই আসরেই বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বাদ পান।
আধুনিক ফুটবলে ডিফেন্সিভ কাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়া, ম্যাচের চাপ বৃদ্ধি এবং খেলার কৌশলগত পরিবর্তনের কারণে এক আসরে ১৩ গোলের মতো কীর্তি অর্জন করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। ফলে ফঁন্তেইনের এই রেকর্ড কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক অমর অধ্যায় হয়ে আছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের তারকারা এই রেকর্ড ভাঙতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ফুটবলবিশ্বে। তবে ফুটবলপ্রেমীদের মতে, ৬৮ বছরের এই অক্ষত রেকর্ড ভাঙা যতটা কঠিন, তার চেয়ে বেশি কঠিন এর ঐতিহাসিক গুরুত্বকে ছাপিয়ে যাওয়া।






























