নেত্রকোনার মদনে ‘মিনি কক্সবাজার’ উচিতপুরে ট্রলার ভাড়া দ্বিগুণ

নেত্রকোনার মদন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পর্যটন স্পট ‘উচিতপুর ট্রলার ঘাট’। বর্ষাকালে বিশাল হাওরের বুক চিরে দিগন্তজোড়া জলরাশি আর ঢেউয়ের দোলা দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন শত শত দর্শনার্থী।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে স্থানীয়রা আদর করে জায়গাটিকে ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। তবে বর্তমানে এই পর্যটন কেন্দ্র ও যাতায়াত ব্যবস্থায় ট্রলার ভাড়া নিয়ে চলছে নৈরাজ্য, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​জানাযায়, যেখানে গত বছর ভাড়া ছিল জয় বাংলা বাজারে ৬০ টাকা কদম শ্রী সকাল বাজারে ৩০ টাকা, গোবিন্দশ্রী৩০ টাকা, বোয়ালি বাজার ৪০ টাকা তা বাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে জয় বাংলা বাজার ৮০ টাকা,কদমশ্রী বাজার ৫০ টাকা, গোবিন্দশ্রী বাজার ৪০ টাকা, বোয়ালি বাজার ৬০ টাকা, যে কোন ছোট নৌকায় ভাড়া গুনতে হয় ৫০০-১০০০ টাকা।

উচিতপুর ট্রলার ঘাটটি অত্র অঞ্চলের যোগাযোগের একটি প্রধান কেন্দ্র। প্রতিদিন এখান থেকে সিলেট,খালিয়াজুরী জয় বাংলা বাজার, গোবিন্দশ্রী, কদমশ্রী, মোহনগঞ্জসহ বিভিন্ন রুটে অন্তত দুই শতাধিক ট্রলার যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করে। বর্ষায় যখন চারপাশ পানিতে ডুবে যায়, তখন হাওরের মাঝখানে অবস্থিত এই স্থানটি যেন এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয়।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মতো ঢেউয়ের গর্জন ও প্রশান্তি পেতে পর্যটকদের কাছে দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ঈদ, পূজা বা বিভিন্ন ছুটির দিনে এখানে বিনোদন প্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
​কিন্তু জনপ্রিয়তার এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু ট্রলার মালিক ও চালক সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে উচিতপুর ফেরি ঘাটের ট্রলার ভাড়া কোনো প্রকার যৌক্তিক কারণ ছাড়াই প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাড়ার এই অযৌক্তিক বৃদ্ধিতে স্থানীয় হাওরবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা এই বাড়তি ভাড়া গুনতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি কোনো নীতিমালা না মেনেই মনগড়াভাবে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

​এ বিষয়ে হাওরপাড়ের বাসিন্দারা স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্রলারের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ, ভাড়া তালিকা টাঙানো এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন। সরকারি সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

উচিত পুর ফেরিঘাটের ইজারাদার,লাহুত মিয়া জানান, ট্রলার চালক ও মালিকরা ভাড়া ব্যাপারে বলতে পারবে। আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না।

উপজেলার নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম জানান প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে ট্রলার ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনবে এবং জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করবে।