রাঙামাটির সমতা ঘাটে মৌসুমি ফলের বিকিকিনি সমারোহ

রাঙামাটির হাট বাজার গুলোতে এখন মৌসুমী ফলে ভরপুর। ভাসমান হাটে ভোরেই একের পর এক ঘাটে ভিড়ছে নৌকা। তাতে বোঝাই পাকা মৌসুমি ফল। সকালের হাট ধরতে কৃষকদের তোড়জোড়। তবে এবার ফলন হলেও কাঙ্খিত দাম না পাওয়ার অভিযোগ চাষীদের।
রাঙ্গামাটির বনরূপার সমতাঘাটে চিরচেনা ব্যস্ততা। কেউ বিক্রি করছেন নৌকায় বসে আবার কেউ ফল বিক্রি করছেন সমতা ঘাটের পাড়ে। নৌকায় ফল দেখতে উঠছেন ক্রেতা-পাইকারেরা। ক্রেতা-বিক্রেতা ও শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
পছন্দের ফল কিনে পাইকাররা বোঝাই করছে ট্রাকে। এর সেই ট্রাক ছুটে চলছে দেশের না প্রান্তে। এখন মূলত আম, লিচু, কাঁঠাল ও আনারস বাজারে বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা এলাকা থেকে আসা সমিরণ তঞ্চগ্যা বলেন, আমি ১০০ মণ আম নিয়ে এসেছি। আমাদের এলাকা থেকে একসঙ্গে কয়েকজন কৃষক মৌসুমি ফল বিক্রি করতে এসেছেন। পাকা ফলের চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রি করতে খুব একটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না।
বাজারে প্রতি কেজি পাকা আম ৭০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দেশি ও চায়না থ্রি জাতের পাকা লিচু বিক্রি হচ্ছে প্রতি ১০০টির ১৪০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া এক জোড়া আনারস ৫০ থেকে ৮০ টাকায় এবং কাঁঠাল আকারভেদে ৪০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি ফলের পাশাপাশি ড্রাগনফল ফলের চাহিদা রয়েছে।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. মিজান বলেন, সমতা ঘাটে তাজা ভালো মানের মৌসুমি ফল পাওয়া যায়। দাম ভালো পেলে ফল কিনে নিয়ে যাবো। এখন মূলত আম, লিচু, কাঁঠাল ও আনারস বাজারে বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ৩ হাজার ৬৩৫ হেক্টর আম, ৩ হাজার ৩৭৫ হেক্টর কাঁঠাল, ১৯ হাজার ৩ হেক্টর লিচু ও ২ হাজার ৫৬০ হেক্টরে আনারস চাষ হয়েছে। এসব মৌসুমি ফলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার মেট্রিক টন।
মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণে পাহাড়ের ফল স্বাদে ভালো হয়। বছরে ৫০০ কোটি টাকার ফল বিক্রি হয় বলে জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
ন্যায্যমূল্যে নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের ফলের বিপন্ন দেশের অর্থনীতিতে আরো বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


























