কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এমপি পদে থাকার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

কুড়িগ্রাম -৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মাহবুবুল আলম সালেহীর সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকার আইনগত কর্তৃত্ব নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট বিভাগ।
গত ২১ জুন বিচারপতি রাজিক- আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এরুল জারি করেন।
রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন, মোঃ মাহবুবুল আলম সালেহী কোন আইনগত কর্তৃত্বে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদে বহাল আছেন। একই সঙ্গে তাঁকে কেন ওই পদে বহাল থাকা থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিট পিটিশনে মোঃ মাহবুবুল আলম সালেহী, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে অভিযোগ করা হয়েছে, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় মোঃ সালেহীর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছিল। রিটকারির দাবি, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে তিনি আইন অনুযায়ী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেননি।
রিটে সংবিধানের ৬৬ (২) (গ) অনুচ্ছেদের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহন অথবা রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকারের ক্ষেত্রে সদস্য হওয়ার অযোগ্যতার বিধান রয়েছে।
রিটকারীর বক্তব্য বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করা এবং আইনগতভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় মোঃমাহবুবুল আলম সালেহী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করেছিলেন কি না সেটিই মামলার মূল প্রশ্ন।
রিটের তথ্য অনুযায়ী গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ ইং কুড়িগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলাপ্রশাসক কুড়িগ্রাম, অন্নপূর্ণা দেবনাথ প্রার্থী মোঃ মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। তখন বলা হয় তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করেছেন এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে পারেননি। পরে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।
নির্বাচন কমিশন আপিল মঞ্জুর করে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে এবং তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়। রিটকারীর বক্তব্য ওই সিদ্ধান্তের পর নির্বাচনে জয়ী হয়ে মোঃ মাহবুবুল আলম সালেহী কুড়িগ্রাম- ৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবং বর্তমানে ওই পদে বহাল আছেন।
তবে রুল জারি হওয়া কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। রুলের জবাব পাওয়ার পর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।






















