টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে র‍্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযান: মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ তরুণ উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত চার তরুণকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার গহীন পাহাড়ে পরিচালিত শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১৫ জানায়, গত ২৬ জুন রাতে ফেনী থেকে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় এসে নিখোঁজ হন এমাম হোসেন জিসান (২৩) ও তহিদুল ইসলাম তামিম (১৯)। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর ২৮ জুন ফেনীর দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১২২১) করেন।

নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে র‌্যাব-১৫-এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর গোয়েন্দা দল তদন্ত শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায়, তারা টেকনাফের একটি কুখ্যাত পাহাড়ি অপহরণকারী চক্রের হাতে জিম্মি রয়েছেন।

এরপর মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে র‌্যাব-১৫-এর সিপিসি-১ এবং টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ যৌথভাবে হ্নীলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার দুর্গম পাহাড়ে অভিযান চালায়। যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে গেলেও পাহাড়ি আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে চারজন অপহৃতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া অন্য দুইজন হলেন— মো. এমাম হোসেন (১৮), দাগনভূঞা, ফেনী এবং সুমন মিয়া প্রকাশ হোসাইন (২২), বাহুবল, হবিগঞ্জ।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, অপহরণকারীরা তাদের হাত-পা বেঁধে পাহাড়ি আস্তানায় আটকে রাখে এবং পরিবারের কাছে জনপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় তাদের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। সময়মতো উদ্ধার করা না গেলে তাদের জীবনহানির আশঙ্কা ছিল বলেও জানা গেছে।

উদ্ধার হওয়া চার তরুণকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।