ভোলায় মা ইলিশ জব্দ করে নয়টি মাদরাসায় বিতরণ

ভোলার চরফ্যাশনে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার, মজুত ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে একটি অসাধু চক্র নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার ও পাচার করে আসছে।

‎সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অভিযান চালিয়ে ২০০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করে পুলিশ। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মা ইলিশ পরিবহনের তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

‎দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের মৎস্য উপসহকারী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের উপস্থিতিতে জব্দ করা মাছ স্থানীয় নয়টি মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং গরিব ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান কবির অভিযান ও মাছ বিতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদীর ডাকাতিয়া মোহনা থেকে কুকরী-মুকরীর দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকার চলছে। স্পিডবোট ব্যবহার করে গলাচিপা হয়ে ইলিশ পাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া, চর কুকরী-মুকরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে ডিপ ফ্রিজে ইলিশ মজুত এবং মাছ কেটে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মাহফুজ, মঞ্জু বকস, মাহাবুব বকস ও আব্বাস বকসের নাম উঠে এসেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে মাহফুজ বলেন, প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে কিছু জেলে নদীতে মাছ শিকার করছেন,এমন ঘটনা সত্য। তবে তিনি নিজে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

‎মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান চললেও স্থানীয়দের অভিযোগ, চরফ্যাশনের বিস্তীর্ণ নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় অবৈধভাবে ইলিশ শিকার ও পাচার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

‎এ অবস্থায় চরফ্যাশনের নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় অভিযান জোরদার, অবৈধভাবে ইলিশ শিকার ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং প্রশাসনের কারও বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।