নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পদ্মায় ইলিশ শিকার, নদীপাড়ে হাট

সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে চলছে মা ইলিশ শিকার। অভিযোগ উঠেছে, গভীর রাতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ ধরে নদীপাড়েই অস্থায়ী হাট বসিয়ে বিক্রি করছেন অসাধু জেলেরা। প্রশাসনের অভিযান চললেও বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার ও বিক্রি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈশ্বরদীর পাকশী হঠাৎপাড়া, সাঁড়া ৫ নম্বর ঘাট, গোপালপুর, শ্মশানঘাট, শেখের চক ঘাট, আরামবাড়িয়া স্কুলঘাট ও কুমোরপুর ঘাটসহ পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্টে মা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। সকালের দিকে নদীর ঘাট ছাড়াও কিছু জেলেদের বাড়িতে দূরদূরান্তের ক্রেতারা আর রাতের বেলায় স্থানীয় ক্রেতারা এসব স্থানে ভিড় করছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে মা ইলিশ নিধন চলতে থাকলে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে জানান, অভাব-অনটনের কারণে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তাঁরা মাছ ধরছেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা পর্যাপ্ত নয় এবং সহায়তার তালিকায়ও সবার নাম নেই।

ক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, পদ্মার টাটকা ইলিশ পাওয়ার খবর শুনে তিনি নদীপাড়ে এসেছেন। তবে মাছের দাম বেশি হওয়ায় সীমিত পরিমাণে কিনেছেন। আরেক ক্রেতা আফজাল হোসেন জানান, তিনি চার কেজি ইলিশ কিনেছেন।

ঈশ্বরদীর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরিন বলেন, কিছু অসাধু জেলে গভীর রাতে কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ শিকার করছেন। তাঁরা পদ্মার চরে লুকিয়ে মাছ ধরে বিক্রি করছেন। জেলেদের হামলার আশঙ্কা থাকায় সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি অভিযান চালানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান চলবে।

প্রসঙ্গত, মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুদ নিষিদ্ধ করেছে সরককার।