বিপুল ব্যবহারকারী
ঢাকায় অফিস খুলতে চায় মেটা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিপুল ব্যবহারকারী ও অনলাইন ব্যবসার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে ঢাকায় সরাসরি অফিস খুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একই সঙ্গে দেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘মেটার সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি মিটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মিটিংয়ে থাকার কথা ছিল, কিন্তু সময়ের কারণে থাকতে পারেননি। মেটার সাথে ঢাকায় অফিস খোলার বিষয়ে কথা হয়েছে এবং তারা আগ্রহী একটা ফোকাল পয়েন্ট ঢাকায় করতে। কারণ বাংলাদেশ ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্যতম বৃহত্তম দেশ।’
মেটার সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি আমাদের ই-কমার্স, অনলাইন ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণে মেটা সহযোগিতা করবে। আমাদের এডুকেশন ইনস্টিটিউশনগুলোর সাথেও মেটা কাজ করতে চায়।’
তিনি জানান, বিশেষ করে যেভাবে ডিজিটাল হ্যারাসমেন্ট হচ্ছে, শুধু বাংলাদেশে নয় বিভিন্ন জায়গায় সেটা আলোচনায় এসেছে। এছাড়া বাংলাদেশের সোশ্যাল কনটেক্সটে মেটা কীভাবে এই ডিজিটাল হ্যারাসমেন্ট কমাতে সাহায্য করতে পারে, সরকারের সঙ্গে কাজ করতে পারে, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সাথে কাজ করতে পারে—সেগুলোও আলোচনায় ওঠে এসেছে। তারা ভেরি মাচ ইন্টারেস্টেড।
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে প্রথম বাজেটটি দেওয়া হয়েছে, এ বছর বাজেটে যেভাবে ই-কমার্স এবং টেকনোলজিকে প্রাধান্য দিয়ে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেটা নিয়েও কথা হয়েছে এবং তারা সেটার প্রশংসা করেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের টিমের সাথে তারা গভীরভাবে কাজ করতে খুবই আগ্রহী। পাশাপাশি তারা পর্যালোচনা করবে যে, তারা কখন কীভাবে ঢাকায় অফিস খুলবে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ড. ইউনূসের সঙ্গে একটি মিটিং হয়েছে। মক্কা প্যাক্ট নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এখানে যেটা আলোচনা হয়েছে, সেটা সাধারণ আলোচনা। এর মধ্যে দেশের বিভিন্নখাতে ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট, ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। ডিসকাশন খুবই আন্তরিক ছিল, আশা করা যাচ্ছে এর মাধ্যমে পার্টনারশিপ এবং স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ হবে। যখন আলোচনায় বসব তখন এসব বিষয়ে আলোচনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের আলোচনায় এলডিসি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি, এই আলোচনা আমরা বাইরে রেখেছি। এখানে কোভিডের একটা বিষয় আছে, পোস্ট কোভিড। ১৫ বছর বাংলাদেশে স্বৈরতান্ত্রিক পরিস্থিতি ছিল, এখানে গণতান্ত্রিক একটা ঘাটতি ছিল, গভীর ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুর পরিস্থিতি ইত্যাদি এবং বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো জ্বালানি সংকট। এই কনটেক্সটা আস্তে আস্তে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে আমাদের এক্সটেনশনের আবেদনে। আমরা সমর্থন পাচ্ছি এবং এই সমর্থনে আমরা পজিটিভ। ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকট বিষয়ে বিশেষ যে কমিটিগুলো আছে সেগুলোকে পজিটিভ নির্দেশনা দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ সভায়।’






























