পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও মিলছে না তথ্য। আবেদন ফাইলবন্দী পড়ে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিকার চেয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে আপিল করবেন জানিয়েছেন তরিকুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী।

তথ্য অধিকার আইন কার্যকর হয় ২০০৯ সালে। এরপর সতেরো বছর পেরিয়ে গেলেও আইনটি সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। সরকারি দপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যের জন্য আবেদন করে এ রকম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে আবেদনকারীদের।

এই আইনের আওতায় কোনো নাগরিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্য চেয়ে আবেদন করলে ২০-৩০ কর্মদিবসের মধ্যে তাঁকে তথ্য সরবরাহ করার কথা। কিন্তু বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাঙ্খিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। আইনটি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণাও নেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর।

তরিকুল অভিযোগ করে বলেন, তিনি একজন নাগরিক হিসাবে “তথ্য অধিকার আইন ২০০৯” এর ধারা ৮ এর উপ ধারা (১) এর ভিত্তিতে তথ্য পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু সস্প্রতি লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলায় বদলী হওয়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ফিরোজুল ইসলাম ও পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থেকে বোদা উপজেলায় সম্প্রতি বদলী হওয়া কর্মরত আবু তাহের কোনো তথ্য দেয়নি।

এমনকি আবেদনের প্রেক্ষিতে তথ্য অধিকার আইনের ধারা ৯ এর উপধারা ৩ ও ৬ না মেনেই ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থতার অজুহাতে তথ্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দু’জনই ফাঁকিবাজি করেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা তথ্য অধিকার আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে মজা নিয়েছেন এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে গড়িমসি করে দিনের পর দিন ঘুরাইয়ে তালবাহানা করেছেন।

তিনি বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নে চা শ্রমিকদের ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত তালিকা ও উপজেলা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত তালিকা এবং উপজেলায় কতটি বাগান মালিক তাহাদের প্যাডে চাহিত চা শ্রমিকদের নাম অর্ন্তভুক্ত করেছেন সেই বাগানের নাম, মালিক/ম্যানেজারের নাম ঠিকানার তথ্য চেয়ে এ প্রতিবেদক উপজেলা সমাজসেবা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু তাহের এর কাছে চলতি বছরের মে মাসের ৬ তারিখে আবেদন করেন।

নির্দিষ্ট সময়ে তথ্য সরবরাহ না করায়, তথ্য না পাওয়ায় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে আপিল করবেন বলে জানান। এরপরও তথ্য না পেলে প্রধান তথ্য কমিশনার ও দূদক বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে তিনি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একব্যক্তি জানান, যারা প্রকৃত চা শ্রমিক ভাতা পাওয়ার যোগ্য তাঁরা পাচ্ছেনা। এই সমস্ত দপ্তরের বিরুদ্ধে দূদকের অভিযান পরিচালনা হলে অনিয়ম দূর্নীতি বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি লালমনিরহাট হাতিবান্ধায় বদলী হওয়া ফিরোজুল ইসলাম গত সোমবার (১০ আগস্ট) তেঁতুলিয়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গণমাধ্যমকর্মী তরিকুল ইসলামকে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ নিয়ে ব্যস্ত আছেন, ব্যস্ততা সেরে তথ্য দিয়ে দিবেন। কিন্তু তথ্য না দিয়ে ফাঁকিবাজি করেন। এর আগে একাদিকবার উপজেলা সমাজসেবা অফিসে ভুক্তভোগী তরিকুল আবেদনের তথ্য চাইতে গেলে সমাজসেবা অফিসার আবু তাহের ও ফিরোজুল ইসলাম তথ্য দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তথ্য সরবরাহ বিষয়ে লিখিতভাবে তাকে কোনো কিছুই জানানো হয়নি।