পঞ্চগড়ে ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের প্রেমের সম্পর্ক, সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ছাত্রীর অভিযোগ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার মাগুরমারী চৌরাস্তা পমিজ উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে মিজানুর রহমান নামে এক সহকারী মৌলভী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সুপারিনটেনডেন্টে বরাবরে সুষ্ঠু বিচার ও সমাধান চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের মাগুরমারী চৌরাস্তা পমিজ উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী এবং ওই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের শিতলীপাড়া গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। মিজানুর রহমান পারিবারিক জীবনে বিবাহিত বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আরবি শিক্ষক মিজানুর রহমান প্রথম থেকে ওই ছাত্রীর দিকে বিভিন্নভাবে তাকাতেন, বিভিন্ন ইশারা ইঙ্গিত করতেন এক পর্যায় প্রেমের প্রস্তাব করেন। এভাবেই ওই ছাত্রীর মিজানুরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। মিজানুর বিয়ে করার আশ^াসে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যায়।

এই বিষয় নিয়ে অত্র মাদ্রাসায় বিভিন্ন প্রকার গোলমাল সৃষ্টি হলে মিজানুর ওই ছাত্রীকে অস্বীকার করে। মিজানুর রহমান কেন ওই ছাত্রীকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে, বিষয়টি তদন্ত করে সকল প্রকার স্বাক্ষীকে হাজির করে তার সুষ্ঠু বিচার ও সমাধান চাওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলেন, মিজানুর রহমানের সঙ্গে তার আট মাস ধরে সম্পর্ক হয়ে আসছে। পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়ে দিবেন এবং তার জন্য যা করার লাগে করবেন অঙ্গীকার করেন, তার সাথে খারাপ আচরণ করেন, বিয়ের প্রস্তাবও দেয়।

ক্লাস রুমে গণিতের নোট করার সময় ঘটনার দিন (২১ সেপ্টেম্বর) মিজানুর রহমান দরজা বন্ধ করে দিয়ে অসামাজিক ঘটনা ঘটায়। অনাকাক্সিক্ষত এই ঘটনায় হয় বিয়ে নয়তো উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান ওই ছাত্রী।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা তবিবর রহমান বলেন, ‘আমার মেয়ের সাথে মাদ্রাসার শিক্ষক মিজানুর রহমান যে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন, আমি একজন গরিব অসহায় মানুষ এই ঘটনায় মেয়েকে এখন কোথায় বিয়ে দিব। এ অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা আমার মেয়েকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং আমি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

একই সঙ্গে আমি সামাজিকভাবে অবহেলিত ও হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি। তিনি মিজানুর রহমানের সঙ্গে তার মেয়েকে বিয়ে ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর চাচী আকলিমা বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি তারা (মিজানুরের পরিবার) আমাদের মেয়েটাকে বিয়ে করুক, যদি বিয়ে না করে তাহলে আমরা উপযুক্ত শাস্তি চাই।’

কয়েকজন অভিভাবক জানান, এই ঘটনায় তাদের মেয়েরা মাদ্রাসায় আসতে চাচ্ছেননা। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবি তুলেন এবং মাদ্রাসা সুপারের কাছে তাদের মেয়েদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা চান।

এদিকে বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের নজরে নিতে চব্বিশ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তারুল হক মুকু।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সহকারী মৌলভী মো. মিজানুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায় এবং মাদ্রাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

মাগুরমারী চৌরাস্তা পমিজ উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, সহকারী মৌলভী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি ওই অভিযোগ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইউএনওকে অবগত করেন।

পরে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তাকে অফিসে ডাকলে তিনিসহ ইউএনও স্যারকে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলেন। বিষয়টিতে আইনগত জটিলতা রয়েছে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউএনও।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শওকত আলীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়ে পাওয়া যায়নি।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, প্রিন্সিপাল আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এটা যেহেতু তাদের ব্যক্তিগত ইস্যু, ভুক্তভোগী এ বিষয়ে মামলা করতে পারে। মিনিস্ট্রি যদি আমাদের কোনো তদন্ত দেয় আমরা তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টা দেখবো। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভুক্তভোগীর নম্বর নিয়েছেন জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ গত মাসের ২১ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসায় দরজা বন্ধ করে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অসামাজিক এই ঘটনাটি পরবর্তীতে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিকভাবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।