শহীদ জাকারিয়া হত্যার খুনিদের বিচার বাস্তবায়নে কমিটি গঠন

সাতক্ষীরা শহরে ছুরিকাঘাতে নিহত জাকারিয়া খান হত্যার বিচার নিশ্চিত ও তা বাস্তবায়নের দাবিতে ৩৮টি অরাজনৈতিক সংগঠনের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ‘জাস্টিস ফর জাকারিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভা থেকে এ কমিটি গঠন করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টায় শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সভায় বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী, ছাত্র ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় বক্তারা জাকারিয়া হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, জাকারিয়া হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা সম্মিলিতভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
অধ্যক্ষ আবুল হাসেমের সভাপতিত্বে ও জাকারিয়া খাঁনের ফুফাতো ভাই শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ডা. আবুল কালাম বাবলা, এড আযাদ হোসেন বেলাল, আবুল কাসেম, মশিউর রহমান বাবু,আসাদুজ্জামান, কামরুজ্জামান রাসেল, অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ পাঁড়, এড. আকবার হোসেন, শেখ শফিকউদ্দৌলা সাগর, সিরাজুল ইসলাম বাবু,আব্দুর রব, আবু মুসা, মেহেদী হাসান, শেখ আবু রায়হান, ডা. মহিদার রহমান, আল ইমরান ইমু প্রমুখ।
পরে জাকারিয়া হত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠন একত্রিত হয়ে শহীদ জাকারিয়া হত্যার খুনিদের বিচার বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সভায় বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা দীর্ঘসূত্রতা যেন না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
সভায় গঠিত কমিটির উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন প্রফেসর আবুল হাসেম, প্রফেসর বাসুদেব বসু, অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল ও কামরুল ইসলাম ফারুক।
ডা. আবুল কালাম বাবলাকে আহ্বায়ক এবং শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন প্রফেসর নুর মোহাম্মদ পাড়, সিরাজুল ইসলাম বাবু, তৈয়েব হাসান, শামসুজ্জামান বাবু, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, জেলা ছাত্রদল, জেলা ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি, অ্যাডভোকেট আকবর আলী ও কামরুজ্জামান রাসেল।
কমিটিতে ৩৮টি সংগঠনের প্রত্যেকটি থেকে তিনজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। সভায় জাকারিয়া হত্যার বিচার দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২ অক্টোবর শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার অফিসের প্রধান ফটকের পাশে চায়ের দোকানের মালিক রবিউল ইসলামের ভাইপো বাপ্পি হাসানের সঙ্গে বিরোধ বাঁধে নাহিদসহ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের। বাপ্পী হাসানকে বাঁচাতে যেয়ে নাহিদের ছুরিকাঘাতের শিকার হন কলেজ ছাত্র জাকারিয়া। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শাহারিয়ার খাঁন বাদি হয়ে শনিবার রাতে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাত জনকে আসামী করে সাতক্ষীরা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। এ মামলার প্রধান আসামীসহ ৩ জনকে পুলিশ ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে।






























