ভিয়েতনামে বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

মহান বিজয় দিবস ২০২০ বাংলাদেশ দূতাবাস, হ্যানয়, ভিয়েতনামে যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর উদযাপন করা হয়েছে।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও ম্যাসেজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত, দূতাবাসে ”বঙ্গবন্ধু কর্ণার” উদ্বোধন, আলোচনা অনুষ্ঠান এবং ডকুমেন্টারী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিজ সামিনা নাজ সকালে জাতীয় সঙ্গীত সহকারে জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচীর সূচনা করেন। দূতাবাসের কর্মকতা ও কর্মচারীগণ সপরিবারে এবং ভিয়েতনামে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য অতিথিবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বাষিকী এবং বিজয় দিবসের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন রাষ্ট্রদূত মিস সামিনা নাজ।
পরে তিনি বিশেষ অতিথি ডিপ্লোমেটিক কোরের ডীন ও প্যালেষ্টাইনের রাষ্ট্রদূত ও ভিয়েতনাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্ত কর্মকতা এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের-কে নিয়ে দূতাবাসে ”বঙ্গবন্ধু কর্ণার”-এর শুভ উদ্বোধন করেন।

পরে বাংলাদেশ দূতাবাস-এর কনফারেন্স রুমে বিজয় দিবসের তাৎপর্য উল্লেখ করে এক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান ও মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিপ্লোমেটিক কোরের ডীন ও প্যালেষ্টাইনের রাষ্ট্রদূত সাদি সালামা ও ভু ভান মিন ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল, ভিয়েতনাম পররাষ্ট্র মন্তণালয় এবং, প্রবাসী বাংলাদেশীগন, ভারত, শ্রীলংকার রাষ্ট্রদূতসহ ভিয়েতনামের ডিপ্লোমেটিক কোরের সদস্যবৃন্দ, ভিয়েতনাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরর উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তা, ভিয়েতনাম টিভি চ্যানেলের প্রতিনিধি ও অন্যান্য মিডিয়া, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিবৃন্দসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত মিজ সামিনা নাজ আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।

বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশের ইতিহাসে এ দিবসের তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নের্তৃত্বের কথা তিনি সশদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, দূতাবাসে মুজিব শতবার্ষিকীর অবদান হিসেবে ”বঙ্গবন্ধু কর্ণার” স্থাপনের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক. সামাজিক ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নানামুখী কর্মকান্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন যে, বঙ্গবন্ধুু আমাদের বিশাল অনুপ্রেরণা, তাঁর অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি। তাঁর অনুপ্রেরনাতেই আমরা দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা মুক্ত, সুখী, সমৃদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছি। মান্যরব রাষ্ট্রদূত কৃতজ্ঞচিত্তে আরো স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতা সহ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, মুক্তিযুদ্ধে অত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের যাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা, যারা দেশ মাতৃকার জন্য জীবন এবং নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন তাঁদের আত্মত্যাগের কথা। অরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিদেশী বন্ধুসহ যাঁরা আমাদের বিজয় অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গত এগারো বছরের অভূতপূর্ব সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় সংকল্পে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বলিষ্ট নেতৃত্বে প্রবাসী বাংলাদেশী সহ সকলকে একযোগে কাজ করার জন্য তিনি আহব্বান জানান।

আগত বিশেষ অতিথি ডীন বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং বলেন যে ”বঙ্গবন্ধু কর্ণার”-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু যে অবিচ্ছেদ্য অংশ তা বঙ্গবন্ধুর বণাঢ্য কর্মজীবনের সার্বিক চিত্রে ফুটে উঠেছে যা আজকের নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে মনে করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অগ্রগতির বিষয়ক একটি প্রামাণ্য চিত্র “Bangladesh’s Socio Economic Development” প্রদর্শন করা হয়।

এরপর পররাষ্ট্র সার্ভিসের কর্মকর্তাদের কন্ঠে চিত্রায়িত ভিডিও সঙ্গীত ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিব’ প্রদর্শন করা হয়। উল্লেখ্য যে, ভিয়েতনাম সরকার কর্তৃক কোভিড মহামারীর সতর্কতার জন্য সকল স্বাস্থ্য বিধি মেনে দিবসটি দূতাবাসে সীমিত আকারে আমন্ত্রিত অতিথি, দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবারবর্গ-এর মাধ্যমে সীমিত আকারে উদ্যাপিত হয়।

অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে বাংলাদেশী রসনা স্বাদে মধ্যাহ্ন ভোজে আপ্যায়িত করা হয়।


ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।