রংপুরের পীরগঞ্জের মাদারগঞ্জ হাট চরম অব্যবস্থাপনা, নাগরিক সুবিধা নেই

রংপুরের পীরগঞ্জের মাদারগঞ্জ হাট স্থানীয় অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। হাটটিতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং নানান সমস্যায় জর্জরিত হওয়ায় এর ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। হাঁটের রাস্তাগুলোতে দখলের রামরাজত্বের কারণে হাঁটুরে এবং শত শত শিক্ষার্থীর পথচলাতেও ভোগান্তি চলছে।

সম্প্রতি এলাকাবাসী প্রায় ২’শ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তায় প্রভাবশালীদের নির্মিত বাড়ীঘর, দোকানপাট ভেঙ্গে দিয়ে উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি গত ২৬ জুন স্থানীয় সচেতন মহল হাটের অবৈধ দখল এবং পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন দিয়েছেন।

পীরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বে শত বছরের পুরোনো মাদারগঞ্জ হাট। এখন সপ্তাহের শনিবার ও বুধবার হাট বসে। হাটে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার হাজারো মানুষ কেনা-বেচা করতে আসেন। হাটে ধান, পাট, সবজি, গরু-ছাগল, স্বর্ণালংকার, পান-সুপারির খুচরা ও পাইকারি কেনা-বেচা হয়।

ঐতিহ্যবাহী এই হাটটিতে চরম অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং হাঁটুরেদের নাগরিক সুবিধা না থাকায় ভোগান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেইসাথে হাটে পয়ঃনিষ্কাশন, যত্রতত্র মল-মুত্র ত্যাগ, মাদকের ছড়াছড়ি, গবাদিপশু ও ব্রয়লার মুরগী জবাই দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করছে। ফলে জনস্বাস্থ্যও হুমকির মধ্যে পড়েছে।

স্থানীয় প্রভাবশালীরা হাটের প্রধান প্রধান রাস্তার পাশের জমি এবং ফুটপাত দখল করে আধাপাকা দোকানঘর নির্মান করায় চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাটের চৌরাস্তা কলেজ মোড়টিতে প্রচুর লোক সমাগম। লাইন ধরে সিরিয়াল হয়ে রাস্তা চলছে। কোন রোগীবাহী পরিবহনও অনায়াসে পার হয় না। বিশেষ করে হাটের দিনে এ চিত্র ভয়ানক!

কারণ চৌরাস্তার মোড়ের পশ্চিমে মাদারগঞ্জ কলেজ, মাদারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, মাদারগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৫/৬ টি কেজি স্কুল ও কোচিং সেন্টার রয়েছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীর যাতায়াতে চৌরাস্তার মোড়েই প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় ব্যয় হয়। অপরদিকে মাদারগঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা মোড়েও একই অবস্থা!

সেখানে অবৈধভাবে নির্মিত দোকান, টেম্পো ষ্ট্যান্ডের কারণেও অন্তহীন নাগরিক সমস্যা। করেনার সময় হাঁটুরেদের জন্য পানির মোটর, ট্যাংকি বসানো হলেও তা আজও ব্যবহার হয়নি। হাটে পর্যাপ্ত পাকা রাস্তা বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। বর্ষাকালে কাঁদা, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য দুর্ভোগ বয়ে আনে বলে জানা গেছে। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও শৌচাগার না থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, “হাজারো মানুষ আসেন, কিন্তু হাটে সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। নোংরা পরিবেশে ব্যবসা করতে আমাদেরও কষ্ট হয়।”

হাটের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদনকারী সাবেক সেনা সদস্য গোলাম মওলা প্রধান জানান, হাটের রাস্তা দখলমুক্ত, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সহ নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, ঐতিহ্যবাহী মাদারগঞ্জ হাটের সমস্যা নিয়ে সচেতন মহলের পক্ষে একটি আবেদন পেয়েছি। শিগগিরই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।