পানি প্রবাহে বাধা, স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা; প্রশাসনের হুঁশিয়ারি

ভবদহ অঞ্চলের ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধ মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ভবদহ অধ্যুষিত হরিদাসকাটি ইউনিয়নের বাহাদুরপুর ফেইলের বিলে ফসলি জমি নষ্ট করে অপরিকল্পিতভাবে স্থায়ী মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি- প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য মাছ ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় উচ্চমূল্যে ফসলি জমি লিজ নিয়ে পাবদা মাছ চাষের জন্য উঁচু বেড়ি নির্মাণ করছেন। এতে বিলের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং আশপাশের ফসলি জমি ও বসতবাড়িতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- বাহাদুরপুর ফেইলের বিলে দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা ছোট ছোট মৌসুমি মাছের ঘের করে বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ চাষ করে আসছেন। বোরো মৌসুমে পানি কমে গেলে একই জমিতে ধান আবাদ করা হয়। এতে মাছ ও ধান-উভয় ধরনের উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকরা জীবিকা নির্বাহ করেন।

সম্প্রতি ঝিকরগাছা উপজেলার বাকড়া এলাকার ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম প্রায় ১২০ বিঘা ফসলি জমি লিজ নিয়ে চারদিকে উঁচু বেড়ি নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে পাবদা মাছ চাষের জন্য বিশাল ঘের তৈরির কাজ শুরু করেছেন।

এলাকার কৃষক চন্ডিদাস, কালিপদ, কৃষ্ণ দাসসহ একাধিক ব্যক্তি জানান- উঁচু বেড়ি ও প্রাচীর নির্মাণের ফলে বিলের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি গভীরভাবে মাটি খনন করে বছরজুড়ে মাছ চাষ করা হলে আশপাশের জমিতে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়বে এবং ফসলি জমি ও বসতবাড়িতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এসব স্থায়ী ঘের বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
হরিদাসকাটি ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান- উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত সপ্তাহে শহিদুল ইসলামের নামে নোটিশ দিয়ে ঘের নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, নোটিশের পরও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গত দুই দিন ধরে একাধিক স্কেভেটর দিয়ে পুনরায় খননকাজ চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম দাবি করেন- প্রশাসনের নোটিশ পাওয়ার পর নতুন করে মাটি খনন করা হয়নি; কেবল পূর্বের বেড়ি সংস্কারের কাজ চলছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- সেখানে এখনও স্কেভেটর দিয়ে মাটি খননের কাজ চলমান রয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন- নোটিশ দেওয়ার পরও যদি পুনরায় খননকাজ পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন বলেন- উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের মৎস্য ঘের খননের সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।