রাজশাহীর মৃত্যুচিত্রে উদ্বেগ, খুলনায় আগাম সতর্কতা-চালু ‘হাম কর্ণার’

দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় নতুন করে সতর্ক হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগরী খুলনা। ইতোমধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত তিন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি বিভাগের পাশে পৃথক ‘হাম কর্নার’ চালু করে চিকিৎসার ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত তিন শিশুর বয়স এক বছরের কম। তাদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এ জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে আটটি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আইনুল ইসলাম জানান, আক্রান্ত শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা গেলেও চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে হাম থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, টিকাদান এবং দ্রুত চিকিৎসা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে খুলনাসহ দেশের অন্তত ১০টি জেলায় হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজশাহী অঞ্চলে। চলতি মাসে সেখানে অন্তত ১২ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চার শিশুর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু নতুন করে শঙ্কা বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও হামে আক্রান্ত রোগীর চাপ হঠাৎ বেড়ে গেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে শতাধিক শিশু ভর্তি হওয়ায় সেখানে পৃথক ‘হাম কর্নার’ চালু করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি কারণে হামের সংক্রমণ বাড়ছে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন। কিছু এলাকায় টিকার ঘাটতি ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতার অভাব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশি বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
চিকিৎসকদের মতে, হামের সাধারণ উপসর্গ জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে ফুসকুড়ি হলেও জটিল ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এই রোগ বেশি বিপজ্জনক।
বর্তমানে খুলনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে আলাদা কর্নার চালু, আক্রান্তদের পৃথকীকরণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, সংক্রমণ ঠেকাতে হলে দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এজন্য প্রয়োজন- টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
সব মিলিয়ে, খুলনায় আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দেশব্যাপী হামের বিস্তার নতুন করে জনস্বাস্থ্য খাতে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো পদক্ষেপই পারে এই সংক্রমণ রোধ করতে।





























