রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পিতামাতার পাশে চিরনিদ্রায় সাবেক আইজিপি ড. এম এনামুল হক

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ইন্টারপোল ও বাংলাদেশ আইন কমিশনের সাবেক সদস্য ড. এম এনামুল হককে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পিতামাতার কবরের পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনীক রুশদ হকের পিতা।এর আগে, গত রবিবার (৩০ আগস্ট) ফজরের ওয়াক্তে তিনি ইন্তেকাল করেন ওইদিন দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়।

সোমবার বেলা ১১টায় গোদাগাড়ীর আ.ফ.জি. পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার শুরুতে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। শেষবারের মতো এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা জানাতে জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে।

পরিবারের পক্ষে: মরহুমের সন্তান ও সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনীক রুশদ হক।
মরহুমের ভাই নেসকোর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন ও ভাতিজা—গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ল রিফর্ম কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার মাহফুজুর রহমান মিলন,।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট,জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানসহ জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য যে ড. এম এনামুল হকের কর্মজীবন ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ ও গৌরবময়। তিনি ১৯৬৪ সালে পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯১ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ১৯৯২ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পুলিশ সেবা থেকে অবসরের পর, ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আইন কমিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, পুলিশ প্রশাসন-এর আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।