রাষ্ট্রীয় সম্মানি পাবেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ধর্মীয় ব্যক্তি

দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় সম্মানি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধবিহার ও ৩০১টি গির্জা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আগামী চার অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে দেশের ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৫৩৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। বর্তমান মেয়াদে তিন বছরের মধ্যে কর্মসূচিটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
সম্মানির হার অনুযায়ী, ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার ও খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন। পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া বিহার অধ্যক্ষ ৫ হাজার, উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার, যাজক ৫ হাজার ও সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন। ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বার্ষিক উৎসব ভাতাও দেওয়া হবে।
উপদেষ্টা জানান, ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিন মসজিদের ২২৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম এবং মন্দিরের ১০ জন পুরোহিত ও সেবাইতকে রাষ্ট্রীয় সম্মানি দেওয়া হয়েছে।
দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে কার্ডধারীদের মাসে ১০ কেজির পরিবর্তে ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে দরিদ্র মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে খাদ্য সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করা হচ্ছে।
বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য আগামী ডিসেম্বরে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার চালু করা হবে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জব ফেয়ার ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের ডাটাবেস তৈরি করা হবে।
একই সঙ্গে শিল্প-কারখানার কর্মীর চাহিদার তথ্য নিয়ে অনলাইন ও অফলাইন ডাটাবেস করা হবে। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে।
এ ছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রারম্ভিক জ্বালানি বহনকারী কার্গো বিমান গত ২ অক্টোবর রাশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছেছে বলে জানান উপদেষ্টা।
তিনি জানান, সেপ্টেম্বরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ৯৮৪টি অভিযান চালিয়ে এক হাজার ৮৮৫টি প্রতিষ্ঠানকে এক কোটি ৮১ লাখ পাঁচ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করেছে। চলতি সপ্তাহে উন্মুক্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে ২৯ দশমিক ১৯ মেট্রিক টন দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবেশদূষণের ঘটনায় ১১২টি মামলা করে ১৩ লাখ ৫৪ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত সাত মাসে প্রায় চার লাখ ৩৪ হাজার কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি তেলের দাম কমে স্থিতিশীল হলে সমন্বয়ের কথা ভাববে সরকার
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে স্থিতিশীল অবস্থায় এলে দেশে তেলের দাম কমানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বর্তমানে কিছুটা কমলেও এই পতন কতটা টেকসই, তা এখনই বলা কঠিন। কারণ, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল। তবে তেলের দাম কমমূল্যে স্থিতিশীল হলে সরকার অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনা করবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসার বিষয়টি তুলে ধরে এক সাংবাদিক জানতে চান, তেলের দাম যখন ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারের কাছাকাছি ছিল, তখন দেশে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বর্তমানে তা কমে এসেছে। এ অবস্থায় দেশের বাজারে তেলের দাম কত দ্রুত সমন্বয় করা হবে?
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম সরকার যে দরে সমন্বয় করেছিল, তার তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে দাম কমার পেছনের কারণটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, যেদিন আমরা তেলের মূল্য বাড়ালাম, তখন নিউজ কি হয়েছিল? তেলের মূল্য কমছে। ওইদিনই তেলের মূল্য একটু কমেছিল। মজার ব্যাপার, তার তিন-চার দিন পর আবার তেলের মূল্য বেড়েছে। আবার ১০৬-১০৭ এ চলে গিয়েছে।
তেলের বর্তমান দর কমার কারণ হিসেবে ইউরোপের দেশগুলোর কৌশলগত মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপকে তাদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বড় পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা একটা ডেটা পেলাম, কিন্তু ডেটার কারণটা যদি খুঁজি আপনারা খুঁজলেই দেখবেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো তাদের স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ থেকে একটা বড় রিজার্ভ বাজারে ছেড়েছেন।
তেলের দাম বর্তমান পর্যায়ে দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল থাকবে কি না, তা নিয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। সেখানে সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বর্তমান বাজারদরকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল দাম হিসেবে ধরে নেওয়া কঠিন। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমমূল্যে স্থিতিশীল হলে সরকার দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, তেলের মূল্য মোটামুটি একটা স্টেবল অবস্থায় এবং যদি কমমূল্যে স্টেবল হয়, তখন অবশ্যই, অবশ্যই সরকার বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে এবং বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। এতে কর্মসংস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই যে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে, এই যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইনভেস্টমেন্ট কম হচ্ছে, এর প্রধান সাফারার তো জনগণ এবং জনগণ মানে সরকার।






























