বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস
‘শিশুশ্রম বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই’

শিশুশ্রম নিরসনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। তিনি বলেন, দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট ও মাদকের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে অনেক শিশু শ্রমে যুক্ত হচ্ছে। এসব শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রাখা শুধু তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে না, অনেক ক্ষেত্রে অঙ্গহানি ও প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সোমবার খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি।’
জেলা প্রশাসক বলেন, দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের শিশুদের লেখাপড়ায় ধরে রাখতে আর্থিক সহায়তা ও মেধাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সেবা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি অবহিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও অংশীজনকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডল, মাসসের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শামীমা সুলতানা শিলু, জাতীয় শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. মজিবুর রহমান এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহকারী ম্যানেজার লিটন কুমার মণ্ডল বক্তব্য দেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শক সানতাজ বিল্লাহ। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. শাহিনুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি এবং জেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগিতায় খুলনা জেলা প্রশাসন ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে খুলনা কালেক্টরেট চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
একই উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; দরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন, অভিভাবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বাড়িয়ে শিশুদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম টুটুল, সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কে. এম. মিজানুর রহমান, সুশীলনের উপ-পরিচালক জি. এম. মনিরুজ্জামান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক সিরাজ সরদার এবং জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সামাদ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের খুলনা শ্রম পরিদর্শক মোহাম্মদ এহসানুল হক।
প্রতিবছর ১২ জুন বিশ্বব্যাপী বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত হলেও বিশেষ কারণে বাংলাদেশে এ বছর দিবসটি ২৯ জুন পালিত হচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৮.৭ সূচক অনুযায়ী শিশুশ্রম নির্মূলে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার ঘোষিত ৪৩টি ঝুঁকিপূর্ণ খাতে শিশু নিয়োগ আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বক্তারা বলেন, শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা বিস্তার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে।





























