খরচ কম, লাভ বেশি! তুলা চাষে ঝুঁকছে যশোরের কৃষকরা

সেচের সীমাবদ্ধতা ও উচ্চ ঝুঁকির কারণে যে উঁচু জমি একসময় অনাবাদী পড়ে থাকত, সেই জমিতেই এখন তুলা চাষ কৃষকদের স্থায়ী আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা এখন লাভজনক তুলা আবাদে ফিরেছেন নতুন আশায় যা বদলে দিচ্ছে যশোর অঞ্চলের কৃষির চিত্র। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং আশানুরূপ দাম পাওয়ায় তুলা চাষে ঝুঁকছে যশোরের কৃষকরা।

প্রাপ্ত সূত্রে মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যশোর জোনে তুলার আবাদ করা হয়েছিল ১৯ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর যশোর জোনের যশোর, কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়েছে। এরমধ্যে যশোরে ১৩ হাজার কৃষক ৩৯০ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করেছেন।

যশোর জোনে দুই হাজার ৬শ’ কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। এবছর সরকারি প্রণোদনা ও আবহাওয়া অনুকূল, রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম হওয়া বাম্পার ফলনে আশাবাদী চাষিরা। অন্য ফসলের তুলনায় তুলা চাষ লাভজনক। উৎপাদন খরচ বাদে তিন-চার গুণ লাভ হয়।

ঝিকরগাছা উপজেলার রঘুনাথনগর গ্রামের তুলা চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে তুলা চাষে ১৪-১৮ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘায় খরচ বাদে ৪০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ হয়। লাভজনক হওয়ায় তুলা চাষ করছি।’

একই এলাকার তুলা চাষি আমিনুর রহমান বলেন, এ বছর ২২ শতক জমিতে তুলা চাষ করেছি। সরকারি প্রনোদণার ৩০ কেজি ডিএপি, ৩৫ কেজি পটাশ, ১৪ কেজি ইউরিয়া, ৬শ’ গ্রাম বীজ ও কীটনাশক পেয়েছি। সরকারি প্রণোদনা পাওয়ায় উপকৃত হয়েছি।

যশোরের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, যশোর জোনের ২৬শ’ কৃষককে প্রণোদনার আওতায় এনেছি। কৃষকের মধ্যে তুলা চাষে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অন্যবারের তুলনায় এবার ফলনও বৃদ্ধি পাবে। যশোরে ১৩ হাজার কৃষক তুলো চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, লাভজনক ফসল হওয়ায় তুলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। সরকারিভাবে প্রণোদনা পাওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। এ অঞ্চলের চাষিদের উৎপাদিত তুলার মান খুবই ভাল।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল আমীন বলেন, যশোর কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ চুয়াডাঙ্গার এই জোনে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হচ্ছে। ভালোমানের বীজ সরবরাহ করেছি। কৃষকেরা যারা। লাভজনক ফসল তুলা চাষে কৃষকদের উৎসাহ বাড়াতে সব ধরণের চেষ্টা করছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড।